


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে পটাশপুর, ভগবানপুর ও এগরা বিধানসভা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিতে কন্ট্রোলরুম খুলল এগরা মহকুমা প্রশাসন। সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা, বেলা ২টা থেকে রাত ১০টা এবং রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত একটানা কন্ট্রোলরুমে বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার ও কর্মীরা থাকবেন বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারীকরা। মহকুমা শাসক কর্মবীর কেশব এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। দুর্গতদের নিরাপদ জায়গায় সরানো, ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া এবং অস্থায়ী শিবিরে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কন্ট্রোল রুম থেকেই তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি।
গতকাল রাত থেকে একটানা ভারী বর্ষণে এগরা, পটাশপুর ও ভগবানপুর বিধানসভা এলাকার পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। অনেক বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। দুর্গতরা বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। পরিস্থিতি অবনতির পথে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোলরুম খুলে এবং ব্লকভিত্তিক লিঁয়াোজ অফিসার নিয়োগ করে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিলির কাজে নেমেছে এগরা মহকুমা প্রশাসন।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও পটাশপুরে এনডিআরএফের দু’টি টিম নামানো হয়েছে। এছাড়া, পটাশপুরে এসডিআরএফের একটি টিম উদ্ধার কাজে নেমেছে। জেলাজুড়ে ২২জায়গায় কমিউনিটি কিচেন চালু করেছে প্রশাসন। রান্না করা খাবার ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের দেওয়া হবে। বহু জায়গায় সাব মার্সিবল পাম্প কাজ করছে না। কোথাও নলকূপ জলের তলায়। এই অবস্থায় পানীয় জল দুর্গত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, এপর্যন্ত ৪৫হাজার ত্রিপল বণ্টন হয়েছে। শুকনো খাবার ও পরিস্রুত পানীয় জল প্লাবিত এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ উদ্ধার কাজে নেমেছে। এছাড়া, ৪০০সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার উদ্ধার কাজে নেমেছে।
পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সোম ও মঙ্গলবার জেলার সব সরকারি বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ। এই মুহূর্তে পটাশপুর, ভগবানপুর, চণ্ডীপুর, হলদিয়া ও ময়না সহ বিভিন্ন জায়গায় দুর্গতদের উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। পটাশপুরে বহু এলাকা পুরোপুরি জলের তলায়। অনেক বাড়ি জলমগ্ন। সেইসব মানুষজনকে উঁচু এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে হাত লাগিয়েছে এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ।
কন্ট্রোলরুম নম্বর-০৩২২০ ২৪৫৫০০