


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান। শুক্রবারের তলবি সভার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে পাকাপাকিভাবে ইস্তফা দিলেন ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। অনাস্থা ভোটে নিশ্চিত হারের গ্লানি এড়াতে তিনি যে নিজে থেকেই সসম্মানে সরে দাঁড়াতে পারেন, গত কয়েকদিন ধরেই জেলার রাজনৈতিক মহলে সেই জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের নির্দেশে তাঁর ইস্তফাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার পরেই সেই জল্পনা বাস্তবে পরিণত হল। এর ফলে শুক্রবারের তলবি সভা কার্যত অর্থহীন হয়ে দাঁড়াল।
প্রশাসন সূত্রে পাওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট বুধবার বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন ফায়েজুল হক কাজল শেখ। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে হাজিরা দেন। শুনানির সময় কাজল জানান, তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে, স্বেচ্ছায় এবং কারও কোনও বিনা চাপে এই পদত্যাগ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর পঞ্চায়েত আইনের ১৪৪(৪) ধারা অনুযায়ী তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি, নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৫টি কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে সভাধিপতির সমস্ত দায়িত্ব, নথিপত্র, সিলমোহর এবং জিম্মায় থাকা সরকারি সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে হাসন কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জেলা পরিষদের চৌকাঠ পেরোননি কাজল শেখ। তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে জেলার গ্রামীণ উন্নয়নের চাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। এই যুক্তি খাড়া করে গত ৪ অগস্ট সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন দলেরই ১৯ জন বিক্ষুব্ধ সদস্য, যাঁর নেতৃত্বে ছিলেন খয়রাশোলের তৃণমূল নেতা নবগোপাল বাউরি। পরবর্তীকালে সেই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর পালে হাওয়া লাগে। কাজলের অপসারণের ব্যাপারে সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করলে প্রায় ৪৪ জন সদস্য কাজলের অপসারণের পক্ষেই মত দেন। যদিও কাজলের অপসারণের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৭ জনের সমর্থন। দেওয়াল লিখন যে স্পষ্ট, তা বুঝতে পেরেই তিনি আর শুক্রবারের ভোটাভুটির রাস্তায় হাঁটলেন না। এনিয়ে অবশ্য কাজলের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সহকর্মীদের দ্বারা বিতাড়িত হওয়ার চেয়ে নিজে পদত্যাগ করে অন্তত নিজের মান-সম্মানটুকু বাঁচালেন কাজল। এখন দেখার, কাজলের এই বিদায়ের পর শুক্রবার জেলা পরিষদে নতুন কী সমীকরণ তৈরি হয় এবং বীরভূম জেলা পরিষদের পরবর্তী কাণ্ডারি হিসেবে কে উঠে আসেন।