


বলরাম মল্লিক
বলরাম মল্লিকের কর্ণধার সুদীপ মল্লিক জানালেন, বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ বাঙালির কাছে একটা আবেগ। আর সেই আবেগকে কেন্দ্র করেই নববর্ষে বাড়িতে অতিথি সমাগম, জমকালো খাওয়াদাওয়া সবই হয়। এই সবেরই শুরু ও শেষে থাকে বাহারি মিষ্টি। এবছর পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে নতুন আর গতানুগতিক মিষ্টির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তাঁরা। শুভ নববর্ষ ছাপ দেওয়া সন্দেশ প্রতি বছরের মতোই এবারও হিট আইটেম। তার সঙ্গে গরমের ফল ফুটি দিয়ে তৈরি হয়েছে মেলন সন্দেশ। ইতালিয়ান মিষ্টি ট্রেস লিচেস খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর থাকছে লিচুর পায়েস, কাঁঠাল সন্দেশ, ম্যাংগো জিলাটো সন্দেশ ইত্যাদি।
শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার
পয়লা বৈশাখের বিশেষ মিষ্টির মধ্যে সবার আগে ‘শুভ নববর্ষ’ ছাপ দেওয়ার মিষ্টির উল্লেখ করলেন কর্ণধার ইন্দ্রনীল ঘোষ। এছড়াও মালাই রোল, মালাই চমচম, মালাই সন্দেশ এবছরের স্পেশাল আইটেম। আরও পাবেন কেশর রসগোল্লা, রাবড়ি, রসমালাই ইত্যাদি।
নিতাই সুইটস
নিতাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্ণধার নিতাই ঘোষ বললেন মানুষ সবসময়ই নতুনত্ব খোঁজে। তাই পোশাক থেকে মিষ্টি সবেতেই একটু ভিন্ন ধরনের কিছু করা দরকার। সেই কথা মনে রেখেই এবছর একেবারে ভিন্ন স্বাদের কিছু মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন তাঁরা। তার মধ্যে স্ট্রবেরি ঘট, কাজুভরা আম সন্দেশ, তুবড়ি সন্দেশ, মধু ভরা ম্যাংগো তালশাঁস ইত্যাদি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কিছু মিষ্টি আছে যার চাহিদা সারা বছর থাকে। যেমন, তালশাঁস সন্দেশ। এই সন্দেশে মধু ভরা থাকে। ঘিয়ে ভাজা গোলাপজামও এখন খুবই জনপ্রিয়। বেকড রসগোল্লা ও সন্দেশেরও চাহিদা ভালোই। এছাড়া বিগত কিছু বছর ধরেই চকোলেট মিষ্টির চাহিদা বাড়ছে। সেই অনুযায়ী তাঁরা চকোলেট মনোহরা, চকোলেট লবঙ্গলতিকা ইত্যাদিও এবছর পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বানাবেন।
শ্রী বিষ্ণুমাতা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার
প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার অদিত ঘোষ জানালেন বৈশাখ মানেই আমের সময়। তাই নববর্ষে আম দিয়ে নানাবিধ মিষ্টি বানাচ্ছেন তাঁরা। আলফানসো আমের সন্দেশ, আমের পাল্প দিয়ে জেলি বানিয়ে সেই স্টাফিং দেওয়া সন্দেশ পাবেন এখানে। এছাড়া চকোলেট বল, চকো রাইস সন্দেশ, চকোলেট মনোহরা, রাবড়ি, রসমালাই, সরের বাটারস্কচ রোল ইত্যাদিও থাকবে।
সতীশ ময়রা
এই দোকানটি শুরু হয়েছিল ১৮৪০ সালে। শতাব্দীপ্রাচীন এই মিষ্টির দোকানের কর্ণধার সম্রাট দাস জানালেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে একটা বিশেষ দিন। এই দিন যে ধরনের মিষ্টির চাহিদা বেশি থাকে তার প্রায় সবই গতানুগতিক। মিষ্টিতে খুব একটা নতুনত্ব তাই এই দিনে করেন না তাঁরা। তাঁদের যেসব মিষ্টি বিক্রি পয়লা বৈশাখে সবচেয়ে বেশি হয় তার মধ্যে রয়েছে আতা সন্দেশ, শঙ্খ সন্দেশ, তালশাঁস সন্দেশ ইত্যাদি। এছাড়া খাস্তা গজারও ভালোই চাহিদা থাকে। তবে গতানুগতিকের মধ্যেও সামান্য নতুনত্ব ভরে দিতে চান সম্রাটবাবুরা। তাই এই দিন তালশাঁসের নানারকম বানানো হয়, যেমন চকোলেট তালশাঁস, ভ্যানিলা তালশাঁস, আম তালশাঁস ইত্যাদি। এছাড়াও এখন লাড্ডু ও দরবেশের চাহিদা বেশি। সেই কথা মনে রেখে ওই দিনের জন্য লাড্ডুর বড় বাক্স তৈরি করা হয়। একটু অবাঙালি ধাঁচের মিষ্টি আজকাল বচ্ছরকার দিনে অনেকেই চাইছেন। সেই কথা ভেবে গোলাপজাম, চকোলেট বরফি, কাজু বরফি প্লেন ও চকোলেট লেয়ার দেওয়া টুটি ফ্রুটি কুমড়ো মিষ্টি ইত্যাদি নানারকমই বানানো হচ্ছে এই দোকানে।