


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: গ্রামীণ এলাকায় জনস্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশবান্ধব পুজোর প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। চলতি বছরে এই কর্মসূচির জন্য ব্লক পিছু আর্থিক বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। গতবার যেখানে এক-একটি ব্লক এই খাতে ৩০০০ টাকা করে পেয়েছিল, সেই অঙ্ক এবার বেড়ে হচ্ছে ৬০০০ টাকা। রাজ্যের ৩৪৫টি ব্লকের জন্য মোট ২০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। এই টাকায় ব্লকগুলি দুর্গাপুজোর সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রচার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ভূমিকা রাখা পুজো কমিটিগুলিকে সম্মানিত করা হবে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শারদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্মান’। পুজো কমিটিগুলিকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতার কাজে আরও বেশি করে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক।
রাজ্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুজো মণ্ডপের আশপাশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত সচেতনতামূলক প্রচার, ব্যানার ও পোস্টার লাগানো, অডিও-ভিজুয়াল মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুজো প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে উদ্যোক্তাদের। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্কাশন, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর ব্যবহারে জোর দিতে হবে। শুধু প্রচার নয়, পুজো কমিটিগুলিকে আরও সক্রিয়ভাবে জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে সিট অ্যান্ড ড্র, স্লোগান লেখা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ক্লাব এবং পঞ্চায়েতিরাজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটিগুলির এসব কাজের বিচার করেই ‘শারদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্মান’ প্রদান করবে রাজ্য। এর জন্য ব্লকভিত্তিক নিরপেক্ষ বিচারকমণ্ডলী গঠন করা হবে। নজরে রাখা হবে পুজো পরবর্তী পরিচ্ছন্নতার দিকেও। পুজোর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন সম্পন্ন করে প্রতিটি ব্লক থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত তিনটি দুর্গাপুজো কমিটির নাম চূড়ান্ত করা হবে। সমস্ত বিভাগের সেরা কমিটিগুলিকে শংসাপত্র ও ট্রফি দিয়ে সম্মানিত করার নির্দেশ শীঘ্রই জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দেবে পঞ্চায়েত দপ্তর।