


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: দুর্ঘটনা রোধ, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্ট দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ‘ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেম’ চালুর নির্দেশ দেয়। দেশের শীর্ষ আদালত নিযুক্ত ‘কমিটি অন রোড সেফটি’ বিষয়টি দেখভাল করবে। সেই মতো পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই ব্যবস্থা চালুর তোড়জোড় শুরু করে। সেই কাজ করতে গিয়ে পুলিশকর্তাদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা চালু হয়ে গেলে তথ্য হ্যাক বা চুরি হতে পারে। কারণ, এই ডেটা পুলিশ ছাড়াও অন্য এজেন্সির কাছে থাকবে। সেক্ষেত্রে ভিভিআইপিদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাঁদের মুভমেন্টের পুরো ছবি এই সিস্টেমে ক্যামেরাবন্দি থাকবে। এসব তথ্য বেরিয়ে গেলে নাশকতার আশঙ্কাও যথেষ্ট। তাই এই ইন্টিগ্রেটেড মনিটরিং সিস্টেমকে ‘ফুল প্রুফ’ রাখতে নতুন প্রযুক্তি আনছে রাজ্য। এর ফলে ডেটা ‘লিক’ হলে সঙ্গে সঙ্গে তা নজরে আসবে এবং সেই তথ্য কাদের হাতে গেল, তাদেরও চিহ্নিত করা যাবে।
নয়া এই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আওতায় প্রতিটি জায়গায় উন্নত মানের ক্যামেরা বসানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রতিটি গাড়ির মুভমেন্ট ক্যামেরাবন্দি থাকে। পুলিশের কন্ট্রোল রুমে থাকা সার্ভারে সমস্ত ছবি ধরা থাকবে। ফলে কোনো গাড়ি অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হলে সেটি সহজে চিহ্নিত করা যাবে। এমনকি, উন্নত মানের এই ক্যামেরায় গাড়ির ভিতরের ছবিও পাওয়া যাবে। নিয়মভঙ্গকারী গাড়ির বিরুদ্ধে যাতে পরিবহণ দপ্তরও ব্যবস্থা নিতে পারে, তার জন্য এই তথ্য তাদের সহ আরও একটি অ্যাপের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
রাজ্য পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো এই ব্যবস্থা চালু করতে উদ্যোগী হয়। পাশাপাশি, সিস্টেমে কোথায় কোথায় ত্রুটি রয়েছে, তাও বিশ্লেষণ করেন কর্তারা। তাতে উঠে আসে, এই ব্যবস্থায় সমস্ত ছবি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সার্ভারে থাকবে। সেই ডেটা যাবে পরিবহণ দপ্তরে। আধিকারিকদের বক্তব্য, শুধু সাধারণ গাড়ির ছবিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী সহ বিভিন্ন ভিভিআইপির গাড়ির ছবিও ক্যামেরাবন্দি হবে। তথ্য হ্যাক করে তাঁদের ‘লাইন অফ রুট’ বাইরে চলে গেলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা থাকে। ভিভিআইপিদের যাতায়াতের রুট জেনে নাশকতা চালানো সম্ভব। এই গুরুতর দিকটি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। তার ভিত্তিতে সার্ভারে এমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাইছেন তাঁরা, যাতে ভিভিআইপিদের গাড়ির তথ্য কোনোভাবে বাইরে না যায়। সেটি কেবল পুলিশের হাতেই থাকে। সেই সঙ্গে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ধরনের সফ্টওয়ার। ফলে কেউ হ্যাক করার চেষ্টা করলে ‘অ্যালার্ট’ মেসেজ আসতে থাকবে। ভিভিআইপিদের গাড়ির মুভেমেন্টের ছবি বা ভিডিও পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো এজেন্সিকে দেওয়া হবে না। এই ব্যবস্থাগুলি লাগু হয়ে গেলেই ইন্টিগ্রেডেট ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেম চালু করা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ।