


নয়ডা: এপ্রিল মাসে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। সেই সময় কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) আটক করা হয়েছিল সাংবাদিক সত্যম ভার্মা ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তথা সমাজসেবী আকৃতি চৌধুরীকে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের হিংসায় উসকানি দেওয়া ও বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টে বড়ো স্বস্তি পেলেন আকৃতি। উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সাচদেবের বেঞ্চ বলেছে, রাষ্ট্রের ‘সাজানো গল্পে’র ভিত্তিতে ওই ছাত্রীকে আটক করা হয়েছিল। অন্য আর কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি প্রয়োজন না হলে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশ, আকৃতির জন্য ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণের সেই টাকা নিজের বেতন থেকে দেবেন নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপম। এই মেধা হলেন দেশের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে।
এফআইআর দায়ের হওয়ার আগে শান্তিভঙ্গের দায়ে আকৃতিকে কোনো নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জবাব চেয়েছিল হাইকোর্ট। চাওয়া হয়েছিল শ্রমিকদের ‘উসকানি’ দিতে ব্যবহৃত ভিডিয়ো এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের বিস্তারিত তথ্যও। উত্তরপ্রদেশ সরকারের বক্তব্য জানার পর এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছে, ‘আমাদের মনে হচ্ছে, আকৃতিকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে নোটিসের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।’ যদিও আকৃতির বিরুদ্ধে আরও মামলা ঝুলে থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।