


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলায় গোরুর কৃত্রিম প্রজননকে জনপ্রিয় করতে এবার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিল প্রাণিসম্পদ দপ্তর। হুগলিতে প্রাণিসম্পদ বিকাশ সপ্তাহ পালনের মতো বড়ো মঞ্চে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। গোটা অনুষ্ঠানকে জনপ্রিয় ও প্রচারের আলোয় আনতে নাগরিকদের অংশগ্রহণের পথও খোলা রাখছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্তারা। সব মিলিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ, সাতদিনের অনুষ্ঠান সূচি তৈরি করা হয়েছে। জেলা থেকে ব্লকস্তর পর্যন্ত নানাভাবে অনুষ্ঠান সূচি সাজানো হয়েছে। জেলার অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই কৃত্রিম প্রজনন কর্মীদের পুরস্কার দেওয়া হবে।
হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগের স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, বড়ো করে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলাজুড়ে গোরুর কৃত্রিম প্রজননকে জনপ্রিয় করা সহ নানা লক্ষ্য নিয়ে আমরা প্রাণিসম্পদ বিকাশ সপ্তাহ পালন করব। গোরুর কৃত্রিম প্রজননে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কর্মীদের পুরস্কার দেওয়া হবে। এই পুরস্কার কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে আরও উৎসাহ জোগাবে এবং নিজেদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি হবে। এর ফলে কৃত্রিম প্রজননের হার যেমন বাড়বে, তেমনই জেলার গো-সম্পদ বিষয়ক অর্থনীতি মজবুত হবে। এই অনুষ্ঠানকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং জনসচেতনতা গড়তে নানা রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কৃত্রিম প্রজননের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের পাশাপাশি ভালো কাজের জন্য আরও কয়েকটি পুরস্কার দেওয়া হবে।
একসময় জেলায় গোরুর কৃত্রিম প্রজনন নিয়ে কারও উৎসাহ ছিল না। পরে পরিস্থিতি বদলায়। শুধুমাত্র বকনা বাছুর জন্মাবে, সেই পদ্ধতির কৃত্রিম প্রজনন বর্তমানে জেলায় জনপ্রিয়। সম্প্রতি এই কাজে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে হুগলি জেলা। তারপরেই বিষয়টিকে নাগরিক সমাজের সামনে নিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাণিসম্পদ বিকাশ সপ্তাহ শুরু হবে জেলায়। সেই অনুষ্ঠানে গাভীর প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান হবে। সব মিলিয়ে কৃত্রিম প্রজননের বিষয়টি আরও জনপ্রিয় হবে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ কর্তারা।