


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, সংবাদদাতা, কল্যাণী ও বজবজ : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাটে বাজি বিস্ফোরণের খবর কানে আসতেই দুঃস্বপ্নের দিনের কথা মনে পড়ছে দত্তপুকুর, কল্যাণী, মহেশতলার বাসিন্দাদের। কয়েক মাস আগেই এই এলাকার বাসিন্দারা দেখেছেন বিস্ফোরণের ভয়াবহতা। ‘আর যেন না হয়’, একটাই প্রার্থনা সকলের।
২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট দত্তপুকুরের মোচপোলে মর্মান্তিক বিস্ফোরণের মৃত্যু হয়েছিল ১০ জনের। ঢোলাহাটে বিস্ফোরণের পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে মোচপোল ও সংলগ্ন গ্রামে। মঙ্গলবার সারাদিনের আলোচনায় ঘুরে ফিরে এসেছে সেই বিস্ফোরণের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরে দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত ইছাপুর-নীলগঞ্জ পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর, বেরু, কাঠুরিয়া সহ আশপাশের গ্রামে বাজি তৈরি হয়। এই এলাকা মূলত ‘বাজি গ্রাম’ বলেই লোকমুখে পরিচিত। প্রবল গরমে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শঙ্কা সেখানেই। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা বলছেন, মোচপোলে এই কারবার কিছুটা কমলেও আশপাশের গ্রামে আজও শব্দবাজি তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। এখান থেকে দত্তপুকুর থানা বা নীলগঞ্জ ফাঁড়ির দূরত্ব অনেকটাই। তাই নজরদারিরও খামতি থাকে বলেই দাবি করছেন স্থানীয়দের একাংশ। পঞ্চায়েত প্রধান নরেন্দ্রনাথ দত্তর দাবি, আমরা সজাগ রয়েছি। এলাকায় নিষিদ্ধ বাজি আগের মতো আর তৈরি হয় না। পঞ্চায়েতের তিনটি সংসদের সদস্যরা নজরদারি চালাচ্ছেন। বুধবার আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সহ অন্যান্যদের নিয়ে বৈঠক করব। বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার স্পর্শ নিলাঙ্গী বলেন, অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।
আতঙ্কের পরিবেশ কল্যাণীর রথতলাতেও। মাস দু’য়েক আগে এখানে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচজন মহিলা শ্রমিক। মঙ্গলবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের মানুষের চোখে মুখে এখনও রয়েছে আতঙ্ক। যদিও তাঁদের দাবি, ঘটনার পর থেকে বাজি কারখানা ও ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। এখন নিয়মিত পুলিসের টহলও চলে। স্থানীয় শহিদ পল্লির এক বাসিন্দা বলেন, এক সময় প্রায় ২৫টা কারখানা ছিল। এখন এলাকায় সাহস করে কেউ আর বাজি তৈরি বা বিক্রি করছে না।
কল্যাণী পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি রথতলার ইতিহাসে কালো দিন। পুরসভা ও প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এর সঙ্গে যুক্তদের বিকল্প ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থানা এলাকার চিংড়িপোতা সহ সংলগ্ন এলাকায় এদিন মাইকে প্রচার চালিয়েছে পুলিস। লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরির ব্যাপারে সংযত থাকতে বলা হয়। কোনও ঘটনা ঘটলে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব চিত্র