


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাজ্য বাজেটে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার ঘোষণা হয়েছে। তার জন্য হাসপাতালের সীমানার মধ্যেই প্রায় ৬.৩৪ একর জমি চিহ্নিত করে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে বিশদ তথ্যও পাঠানো হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠবে এখানে। তবে সেই ভবিষ্যতের অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে না থেকে, বর্তমান হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক জোর দিল প্রশাসন। এবার সিউড়ি হাসপাতালেই বসতে চলেছে আধুনিক এমআরআইমেশিন, প্রসূতি মায়েদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ এইচডিইউ এবং বসছে সম্পূর্ণ নতুন লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সিউড়িতে একটি এমআরআই মেশিনের দাবি ছিল। স্বাস্থ্যদপ্তরের সবুজ সংকেত মিলতেই তার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। হাসপাতালে ঢুকেই ডান দিকে যে ‘স্কিল ল্যাব’ রয়েছে, সেখানেই এই এমআরআই মেশিনটি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্নায়ু রোগ, হাড়ের জটিল সমস্যা বা ব্রেন স্ট্রোকের মতো জরুরি ক্ষেত্রে গরিব রোগীদের আর হাজার হাজার টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটতে হবে না। সরকারি হাসপাতালেই মিলবে আধুনিক পরিষেবা।
অন্যদিকে, হাসপাতালের মাতৃ বিভাগে প্রসূতি মায়েদের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে ৬ শয্যা বিশিষ্ট ‘ম্যাটারনাল হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট’ বা এইচডিইউ। হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ে সিসিইউথাকলেও প্রসূতিদের জন্য আলাদা পরিকাঠামো ছিল না। এর আগে অনেক জটিল কেসে প্রসূতি মায়েদের বর্ধমান বা কলকাতায় রেফার করে দিতে হতো। এমনকি পথেই অনেক প্রসূতির মতোও বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে। এবার এই বিশেষ এইচডিইউ চালু হলে প্রসব পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত মায়েদের আর রেফারের চক্করে পড়তে হবে না। আশঙ্কাজনক মায়েদের এখানেই রেখে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রাখা সম্ভব হবে।
এর পাশাপাশি হাসপাতালের অক্সিজেন সংকট মেটাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বসছে নতুন লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট। প্রসঙ্গত, হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের ইমারজেন্সির সামনে একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট থাকলেও তা শুরুর দিন থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে তা সংস্কার করাও আর সম্ভব নয় বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের। তাই হাসপাতাল চত্বরেই অন্যত্র এই নতুন লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রতিটি শয্যায় সরাসরি নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে।হাসপাতালের সুপার প্রকাশ চন্দ্র বাগ বলেন, ‘রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশিকা ও সহযোগিতায় হাসপাতালের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এমআরআই, ম্যাটারনাল এইচডিইউ এবং নতুন লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু হলে রেফার করার প্রবণতা যেমন একধাক্কায় কমবে, তেমনই বীরভূমসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উন্নতমানের ও আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।’