


সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুর পুরসভা পরিচালিত আরণ্যক বনভোজন উদ্যান থেকে পাচার হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু দেশি-বিদেশি পাখি। শুধু তাই নয়, এই বাগানে যে সব ময়ূর ছিল, তারও দেখা নেই। অভিযোগ, কৌশলে সেগুলি পাচার করা হয়েছে। যদিও উদ্যানের পরিচালক জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি পাখি ও ময়ূর মারা গিয়েছে। বিজেপির বারুইপুর ১ নম্বর মণ্ডলের পক্ষ থেকে স্বরূপ দত্ত এই বিষয়ে বারুইপুর থানায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ উদ্যানের সুপারভাইজার পুরসভার কর্মী পল্লব ভারতীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনদপ্তরের অধীনে থাকা বারুইপুর রেঞ্জ থেকেও থানায় এ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন, বনদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কীভাবে দেশ-বিদেশের এত পাখি এই উদ্যানে রাখা হয়েছিল? বনদপ্তর কি কিছুই জানত না? এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগের আধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।
বারুইপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আদি গঙ্গার পাশে রয়েছে এই উদ্যান। এখানে ১৩টি ময়ূর, এমু, টিয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু দেশি-বিদেশি পাখি ছিল। বুধবার বিজেপির বারুইপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী ও দলের রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম করের কাছে খবর আসে, ওই উদ্যানে বেশ কিছু ময়ূর মারা গিয়েছে। তা শুনেই তাঁরা দ্রুত ওই উদ্যানে যান। গিয়ে দেখেন, পাখির দেখা সেভাবে নেই। এমনকি, যে উটপাখি ছিল, সেটিও নেই। গোপাল সর্দার নামের এক কর্মী জানান, খাবারের অভাবে ১০টির মতো ময়ূর সহ বেশ কিছু পাখি মারা গিয়েছে। এরপরই খবর দেওয়া হয় বারুইপুর থানায়। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বাহিনী যায় সেখানে। সুপারভাইজার পল্লব ভারতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাঁরা। তিনি পুলিশকে জানান, পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সবটাই জানেন।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী বলেন, মোট ১৩টি ময়ূর ছিল। রাতারাতি সব গায়েব হয়ে গিয়েছে। কর্মীদের কথা অনুযায়ী, মারা যাওয়ায় তাদের দেহ মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। বনদপ্তরকে না জানিয়ে কী করে তা সম্ভব হল? এই ঘটনায় আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। উত্তম কর বলেন, পুরসভার মদতে উদ্যানে দেশি-বিদেশি পাখি আটকে রেখে তা পাচার করা হয়েছে। উদ্যানের কর্মীদের বক্তব্য পরস্পর বিরোধী। এই ঘটনায় পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সমান দোষী।