


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চার ম্যাচে তিনটিতে হার। বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচ থেকে পাওয়া এক পয়েন্ট। ছাব্বিশের আইপিএলে আপাতত কলকাতা নাইট রাইডার্সের পারফরম্যান্স এরকমই। এমনিতেই টুর্নামেন্টের আগে থেকেই নানা কারণে জর্জরিত ছিল শাহরুখ খানের দল। তবুও আশা ছিল, বল গড়ালে খামতি মিটিয়ে চেনা ছন্দে ফিরবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। বৃহস্পতিবার ইডেনে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে সেই সম্ভাবনা তৈরিও হয়েছিল। কিন্তু মুকুল চৌধুরির ব্যাটিং তাণ্ডবে জয় ছিনিয়ে নেয় লখনউ। শেষ দুই ওভারে ৩০ রান দিয়ে ম্যাচ হারে কেকেআর। তার মধ্যে ১৯তম ওভারে ক্যামেরন গ্রিন দেন ১৬ রান। তাঁকে নিয়ে সমর্থকরা ক্ষুব্ধ। উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সেটাই স্বাভাবিক। অলরাউন্ডার হিসেবে গ্রিনের পিছনে ২৫ কোটি বিনিয়োগের যুক্তি কি সঠিক? শুধু গ্রিন কেন, বাকি বিদেশিদের অবস্থাও তথৈবচ। নাইট রাইডার্স দলটাই এখনও গুছিয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে বোলিংয়ের খামতি স্পষ্ট। হর্ষিত রানার না থাকা দলকে আরও দুর্বল করেছে। মাথিশা পাথিরানা কবে শিবিরে যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা তাঁকে এনওসি দিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ। সেটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে পাথিরানার বিকল্প চেয়ে বোর্ডের কাছে কেকেআর কর্তৃপক্ষের আবেদন করা উচিত বলে মত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
কেকেআরের পরের ম্যাচ ১৪ এপ্রিল। চিপকে সুপার কিংসের বিরুদ্ধে খেলতে শুক্রবার চেন্নাই উড়ে গেলেন রাহানেরা। তাঁদের মনোবল একেবারে তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে জয় জরুরি। তার জন্য চেন্নাই ম্যাচে কেকেআরের প্রথম একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন হতে পারে। ক্যামেরন গ্রিনের মতোই ফিন অ্যালেনও এখনও পর্যন্ত ব্যর্থ। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন টিম সেইফার্ট। সম্ভাবনা রয়েছে রাচীন রবীন্দ্রেরও। তবে কেকেআরের সবচেয়ে বড় সমস্যা ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা। রিঙ্কু সিংকে গত ম্যাচে পাঁচে তুলে আনা হয়েছিল। কারণ, তিনি স্ট্রাইক রোটেট করে দ্রুত রান তুলতে পারেন। কিন্তু রিঙ্কু বড় রান পাচ্ছেন না। তাই ডেথ ওভারে রানের গতি মন্থর হচ্ছে। তাছাড়া নবদীপ সাইনিও লখনউ ম্যাচে হতাশ করেছেন। সব মিলিয়ে দলে একাধিক পরিবর্তন প্রয়োজন। কিন্তু কোচ অভিষেক নায়ার কি সেই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারবেন? অন্য দলগুলিকে দেখে নাইট টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া। রাজস্থানের হয়ে বৈভব, দিল্লির হয়ে রিজভি এবং লখনউয়ের জার্সিতে মুকুলের ব্যাটিং ক্রিকেট মহলে সাড়া ফেলেছে। এই যুক্তিতেই দক্ষ কামরা, সার্থক রঞ্জন, তেজস্বী সিংদেরও কেকেআরের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া উচিত।