


নয়াদিল্লি, ২ এপ্রিল: কালিয়াচকের ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে শোকজ করা হল। পুরো বিষয়টির প্রাথমিক রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রয়োজনে এই ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে করানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কমিশনের। তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা করা উচিত ছিল। প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির রিপোর্টও তলব করেছে আদালত। এদিন স্পষ্টভাবে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলেই মনে হচ্ছে। এটি সরাসরি বিচারব্যবস্থার উপর আঘাত। এটি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আজ মামলায় রাজ্যের তরফে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং গোপাল শঙ্করনারায়ণ। কমিশনের পক্ষ থেকে ছিলেন ডিএস নাইডু। কালিয়াচকে হওয়া গোটা ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। সওয়াল করেন এজি তুষার মেহেতা।
উল্লেখ্য, মালদহের কালিয়াচকে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত ৭ জন বিচারককে গত বুধবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করা হয়। ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় এলাকায় ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। দুপুর ৩টের পর তা চরম আকার নেয়। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের ঘেরাও করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘক্ষণ তাঁদের আটকে রাখে। শেষে রাতের দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। অভিযোগ, তাঁদের উদ্ধার করে ফেরানোর সময়ে গাড়ির উপর ইটও ছোড়া হয়। ওই ৭ জন বিচারকের মধ্যে তিনজন মহিলাও ছিলেন। এরপর এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে রিপোর্ট পাঠান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।