


প্রশ্ন: বৈরাগ্য ও অভ্যাস দ্বারা কি ভগবানের দিকে যাওয়া যায়?
উত্তর: বৈরাগ্য হলো বিষয় থেকে মনকে টেনে নেওয়া, অভ্যাস হলো বার বার ভগবানকে চিন্তা করা। অভ্যাস ও বৈরাগ্যের দ্বারা ভগবানের দিকে যাওয়া যায়। এ ছাড়া ধ্যান-জপ করবে, শুদ্ধ আচার মেনে চলবে।
প্রশ্ন: শুদ্ধ আচার বলতে কি বুঝব?
উত্তর: শুদ্ধ আচার বলতে বোঝায় ‘যোগে’র অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি ‘যম’ ও পাঁচটি ‘নিয়ম’ মেনে চলা। এ ছাড়া শুদ্ধ আচার মানে কাকেও ঠকাব না, জীবনকে সাদাসিধে রাখতে চেষ্টা করব, ভোগ-বিলাস নয়। একে ছোঁব না, ওকে ছোঁব না—তা নয়। সত্যকে ধরে থাকব।
প্রশ্ন: সেব্য-সেবকভাব বলতে কি বুঝব?
উত্তর: আমি তাঁর দাস, আমার অন্তরে বাইরে পরিব্যাপ্ত হয়ে রয়েছেন তিনি—এই ভাব আরোপ করার চেষ্টা করবে। দাস বলছেন যখন, তখন দাসরূপে কর্তব্য হচ্ছে সেবা করা।
প্রশ্ন: সত্ত্বগুণের পারে যেতে বলছেন কেন?
উত্তর: এর পারে গেলে মনের ভিতরে আর কোন বাসনা, কোন অশুভ চিন্তা উঠবে না। সত্ত্বগুণের পারে যাবে যে, তাকে দিয়ে আর কারও অকল্যাণ হবে না।
প্রশ্ন: দশহরার তাৎপর্য কি?
উত্তর: গঙ্গাস্নান করলে দশহরায় দশ জন্মের পাপ হরণ হবে। দশহরায় গঙ্গাপূজা প্রশস্ত।
প্রশ্ন: দশহরায় আমি তো কোন পুজো করিনি, গঙ্গাজল মাথায় দিয়েছি, তবে?
উত্তর: তা হলেই হবে।
প্রশ্ন: একটি বইয়ে এরকম লেখা আছে, মহারাজ ‘সময় হলে গুরু
স্বয়ং শিষ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং নৈর্ব্যক্তিক উদ্দেশ্য ঘোষণা করেন। এ অবস্থা গুরু নিজেই সৃষ্টি করেন, শিষ্যকে চাইতে হয় না।’ এর মানে কি?
উত্তর: ‘সময় হলে গুরু স্বয়ং শিষ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন করেন’—এর মানে গুরু একজন ব্যক্তি, শিষ্য আর একজন ব্যক্তি—এই ভাবটি অতিক্রম করলে তবে লক্ষ্যে পৌঁছান যায়।
আর নৈর্ব্যক্তিক উদ্দেশ্য বলতে গুরু ব্যক্তি নন, তিনি আদর্শ। এবং শিষ্যের সেই আদর্শে পরিণতির সম্ভাবনা আছে। ঠাকুর বলেছেন কালেই মন গুরু হয়, কারণ শিষ্যের ভিতরে যে সব সম্ভাবনা আছে গুরু তা প্রকাশ করতে সাহায্য করেন। যখন সেই সম্ভাবনা প্রকাশিত হয় তখন নৈর্ব্যক্তিক। যিনি ভাল গুরু হবেন, তিনি শিষ্যকে স্বাধীন করে দেবেন। পূজনীয় শরৎ মহারাজ একদিন বলেছিলেন যে, সব কথা গুরুকে জিজ্ঞাসা করতে হয় না, নিজেই চিন্তা করে নানা সমস্যার সমাধান করতে হয়। স্বাবলম্বী হতে হবে তো! অনেক সময় সমাধান নিজেকেই করতে হয়।
স্বামী ভূতেশানন্দের ‘অমৃতকথা’ থেকে