


সংবাদদাতা, বনগাঁ: এক চিলতে টিনের চালের নীচে বসেই পড়াশুনা করে জয়েন্ট এন্ট্রাস অ্যাডভ্যান্সড (জেইই) পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফল করেছেন গাইঘাটা পাঁচপোতার ছাত্র তন্ময় ভৌমিক। সর্বভারতীয় তালিকায় (এসসি) ২৫০০ র্যাঙ্ক তাঁর। তবে অভাবের সংসারে তাঁর একটাই চিন্তা, পড়াশুনার খরচ চালানো। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসে যোগাযোগ করেছেন তন্ময়। তাঁর চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ। ভালো ফলের আনন্দ তাঁর কাছে ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
তন্ময় ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করেছে। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। সেই লক্ষ্যে এগতে থাকে শান্ত প্রকৃতির এই ছাত্র। বাবা মঙ্গল ভৌমিক ও মা ময়নাদেবী দিনমজুর। নিজেদের বলতে সামান্য ভিটে জমি। সেখানেই টিনের চাল ও টিন বেড়ার ঘরে কোনওমতে মাথা গুঁজে থাকা। সকাল হলেই অন্যের জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয় বাবা-মাকে। লক্ষ্য একটাই, ছেলেমেয়েকে মানুষ করা। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন তন্ময়। কলকাতায় কোচিংয়ে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু খরচের কথা ভেবে বাবা প্রথমে তাতে রাজি হননি। সাহস জুগিয়েছেন মা। বাবা-মা অমানুষিক পরিশ্রম করে ছেলের পড়াশোনার খরচ সামলেছেন। ছেলের এই ফল তাঁদের আরও সাহস জুগিয়েছে। তন্ময় জানান, হস্টেলে থেকে পড়াশুনা করতে অনেক খরচ হয়েছে। আগামীতে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর। জানালেন, যেখানে ভালো সুযোগ পাবেন, সেখানেই ভর্তি হবেন। তবে খরচের দিকটা নিয়েও ভাবছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষাতেও ভালো ফল করবেন বলে আশাবাদী তন্ময়।
পড়াশুনার পাশাপাশি সমাজ নিয়েও ভাবেন তিনি। আরজিকর কাণ্ড কিংবা শিক্ষকদের চাকরি বাতিল নিয়ে যা হয়েছে, তা খুবই উদ্বেগের বলে মনে করেন। ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা মঙ্গল ভৌমিক বলেন, ওর মা না থাকলে আমি এই সাহস দেখাতে পারতাম না। আগে কোচিং পেলে আরও ভালো ফল করত। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। ঈশ্বর ভরসা। আর ভাইকে সব সময়ে সাহস জুগিয়ে চলেছেন পলিটিক্যাল সায়েন্সের ছাত্রী দিদি শুক্লা ভৌমিক। পরিবারের সকলেই আশাবাদী, আগামীতে অনেক বড় হবে তন্ময়।