


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুকান্ত মজুমদারের বিদায়ে কম্পন ধরেছে বিজেপির রাজ্য কমিটির একাংশ ‘মাতব্বর’ নেতার। চারবছর ধরে পার্টিকে সামনে রেখে একচেটিয়া মৌরসিপাট্টা চালাচ্ছিলেন তাঁরা। দলেরই একাংশ তাঁদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অতীতে জে পি নাড্ডা থেকে অমিত শাহ পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। দলের সাংগঠনিক জেলাগুলিতে অনুগত সভাপতি বসিয়ে তাঁদের মাধ্যমে টাকা তোলার মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে। টাকার বিনিময়ে পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে পদ পাইয়ে দিতেন বলেও আদি নেতাদের দাবি। এবার অভিযুক্ত সেই নব্য তথা তৎকাল নেতাদের মাথার হাত পড়েছে। কারণ, শমীক ভট্টাচার্যের জমানায় নিজেদের ক্ষমতা খর্ব হতে চলেছে। স্বপদে আদৌ থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে অনেকের। তাই এখন থেকেই নয়া রাজ্য সভাপতি কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘ম্যানেজ’ করার খেলায় নেমে পড়েছেন এই সব ‘এসি ঘরের বাঘ’। সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই শমীকবাবু নিজের টিম গুছিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করবেন। নবকলেবরে গড়া হবে নয়া রাজ্য কমিটি। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পাঁচজন সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাবেন। বিদায়ী রাজ্য কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেও, একাধিক নেতা-নেত্রীকে কার্যত ‘পঙ্গু’ করে রেখেছিলেন সুকান্ত মজুমদার কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে বৈঠকে আমন্ত্রণ—সবক্ষেত্রেই ব্রাত্য করে রাখা হতো ওই কয়েকজনকে। শমীক ভট্টাচার্য সাড়ে চার দশকের বেশি সময় ধরে আর এসএস এবং বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। পার্টির বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী তিনি। তাই অনেকের মতে, পরীক্ষিত আদি নেতা-কর্মীরা এবার বঙ্গ বিজেপিতে সম্মান ফিরে পাবেন। এক্ষেত্রে আসন্ন বিধানসভা
ভোটে রাজ্যের প্রধান বিরোধী
দলের উপর থেকে নিচু পর্যন্ত সর্বত্র একটা ঐক্যবদ্ধ চেহারা দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে হঠাৎ করে বিজেপি হওয়া ‘স্বঘোষিত নেতাদের’ ছাঁটাই করার কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনই আশা পুরনোপন্থীদের। বেশকিছু নেতাকে সুকান্ত মজুমদারের কমিটি অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করে রেখেছে। সেগুলিও উঠে যাবে বলে বঙ্গ বিজেপি সূত্রের খবর।