


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মঙ্গলবার হাওড়া জেলায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের। একটি ঘটনা ঘটেছে আমতা-রানিহাটি রাস্তার লালগেট এলাকায়। একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক বাইক আরোহীকে ধাক্কা মারলে মৃত্যু হয় তাঁর। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা বাসটি ভাঙচুর করেন। অন্যটি ঘটেছে মুন্সিরহাটের নরেন্দ্রপুরে। দু’টি ঘটনায় জখম হয়েছেন মোট পাঁচজন।
এদিন সকালে আমতা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের একটি কারখানার কর্মী কিংশুক ভুঁইয়া (২২) বাইকে চেপে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিংশুক মানুকপীর দিয়ে আমতা-রানিহাটি রোডে উঠে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় লালগেটের কাছে আমতা থেকে এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়া একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। এতে কিংশুক রাস্তায় ছিটকে পড়ে মারাত্মক জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় গাববেড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরেই স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা যাত্রীদের নামিয়ে বাসটি ভাঙচুর করেন। রাস্তা অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরে চন্দ্রপুর ফাঁড়ি ও জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের বাড়ি রাজাপুর থানার সত্যপীরতলা এলাকায়। বাসটিকে আটক করা হয়েছে। মৃতদেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আমতা ১০ নম্বর পোল থেকে মানিকপীর পর্যন্ত এই রাস্তায় কোনো ‘স্পিডব্রেকার’ নেই। ফলে গাড়িগুলি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাতায়াত করে। ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাঁদের বক্তব্য, এই সমস্যা নিয়ে একাধিকবার পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। অবিলম্বে এই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসানোর দাবি জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, মুন্সিরহাটের নরেন্দ্রপুরে এদিন ভোরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ট্যাঙ্কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরভ্যান ও দু’টি বাইককে পরপর ধাক্কা মারে। একটি বাইকে স্বামীর সঙ্গে যাচ্ছিলেন জামিমা ইয়াসমিন। তাঁদের বাড়ি পেঁড়োয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় জামিমা বাইক থেকে পড়ে গেলে ট্যাঙ্কারটি তাঁকে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ঘাতক ট্যাঙ্কারটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়েছে। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।