


বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন: পাকিস্তানের জঙ্গি মদতের পর্দাফাঁস করতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির কথা তুলে ধরল ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল। বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের ব্রিটেন সফর মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। রবিবার সফরের শুরুতেই লন্ডনের টাভিস্টক স্কোয়ারে গান্ধী মূর্তি ও সংবিধান প্রণেতা বিআর আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।সেখানেই পাক মদতপুষ্ট সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের আবহে গান্ধীজির অহিংসার আদর্শের প্রাসঙ্গিকতার কথা বলেন প্রসাদ। ওই দিন ভারতীয় হাইকমিশনে সমাবেশেও ভাষণ দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে বলা হয়, আজ ভারতে যা ঘটেছে, তা যে কোনও দেশেই হতে পারে। এর আগে প্রতিনিধি দল লন্ডনের আম্বেদকর মিউজিয়ামেও যান।
নয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের লন্ডনের ইন্ডিয়া হাউসে স্বাগত জানান ব্রিটেনে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। সেখানে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা হাতে সমবেত হয়েছিলেন প্রবাসী ভারতীয়রা। সেখানে প্রসাদ বলেন, পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত ভারত। বিজেপি সাংসদ পুরন্দশ্বেরী বলেন, যখন দেশের স্বার্থের বিষয়টি সামনে আসে, তখন আমরা সবাই একজোট।
হাইকমিশনার দোরাইস্বামী সন্ত্রাসবাদকে আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে দেখার বার্তা দেন। তিনি বলেন, এই সমস্যা শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা বিশ্বকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এরপর ব্রিটেনের শ্যাডো বিদেশমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল ও বিরোধী কনজারভেটিভ দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত তাঁর টিম ভারতীয় প্রতিনিধিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় অপারেশন সিন্দুর কীভাবে ভারতের নয়া কৌশলগত নীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছে তা ব্রিটিনের বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরে প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দল বিদেশ, কমনওয়েল্থ ও উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ক্যাথেরিন ওয়েস্টের সঙ্গে দেখা করে। সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ মোকাবিলায় ভারতকে সমর্থনের বার্তা তিনি আরও একবার স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেন।
কনজারভেটিভ ক্যাম্পেন হেডকোয়ার্টারে কনজারভেটিভ পার্টির কো-চেয়ার লর্ড ডোমিনিক জনসন ও কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস ফর ইন্ডিয়ার কো-চেয়ার কুলেশ শাহর সঙ্গেও আলোচনা হয় ভারতীয় দলের। তাঁরাও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। লেবার ফ্রেন্ডস ইন্ডিয়া, লেবার কনভেনশন অব ইন্ডিয়ান অর্গানাইজেশনস, শিখস অব লেবার, হিন্দুজ ফর লেবার সহ লেবার পার্টির ভারত সম্পর্কিত গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আলোচনা হয় প্রতিনিধি দলের। ব্রিটেনের মন্ত্রী সীমা মালহোত্রার সঙ্গেও পৃথক বৈঠক হয়।