


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে চাষির কাছ থেকে অস্বাভাবিক বেশি পরিমাণে ধান কেনা হচ্ছে কি? তা নিয়ে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে রাজ্য খাদ্যদপ্তর। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রধান সচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকি এবং অন্য শীর্ষ আধিকারিকরা জেলা সফরে বেরিয়েছেন। প্রকৃত ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের নামে ফড়ে চক্র যাতে ফায়দা না তোলে তার জন্যই এই সতর্কতা। এখন সরকারের কাছে এমএসপি’তে ধান বেচলে কুইন্টাল প্রতি প্রায় ৫০০ টাকা বেশি মেলে। এই মওকায় চাষির কাছ থেকে সস্তায় ধান কিনে এমএসপি’তে সরকারের কাছে ধান বিক্রির ফন্দি আঁটে ফড়েরা।
১ নভেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত ১২ লক্ষ ৬০ হাজার টন ধান কেনা হয়েছে। নভেম্বরে ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ লক্ষ টন। কিন্তু প্রায় ১০ লক্ষ টন কেনা হয়েছে গতমাসে। গোটা মরশুমে আগস্ট মাস পর্যন্ত মোট ৬৭ লক্ষ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা আছে সরকারের। এজন্য মাস এবং জেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিয়েছে খাদ্যদপ্তর।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খাদ্যদপ্তরের পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, গোটা রাজ্যের নিরিখে মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৩ শতাংশ ধান ইতিমধ্যেই কেনা হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি জেলায় ক্রয়ের গতি বেশ ভালো। যেমন উত্তর ২৪ পরগনা ২৪ শতাংশ, ঝাড়গ্রাম ২১ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং ২০ শতাংশ। ধান উৎপাদনে প্রথম সারিতে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। কিন্তু ওই জেলাগুলি এই কাজে পিছিয়ে রয়েছে। জেলা পরিদর্শনে এই অসামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। ফড়েদের দৌরাত্ম্য রুখতে একগুচ্ছ আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল বিক্রেতার বায়োমেট্রিক যাচাই। একজন চাষি গোটা মরশুমে সর্বোচ্চ মোট ৯০ কুইন্টাল ধান বেচতে পারবেন। তবে একদফায় বিক্রির সর্বোচ্চ পরিমাণ ১৫ কুইন্টাল। কিছু অনথিভুক্ত বর্গাদারও সরকারের কাছে ধান বেচতে পারেন। বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যেকার ফাঁকফোকর বের করেই অন্যায় সুযোগ নেয় কিছু ফড়ে। বিশেষ নজরদারি সেজন্যই। তাই যেসব জায়গায় ধান বিক্রির পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি, পরিদর্শকদের নজর সেখানেই।
চাষির কাছ থেকে কেনা ধান সরাসরি রাইস মিলগুলিতে পাঠানো হয়। ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে রাইস মিলের প্রতিনিধিরাও থাকেন। অতীতে কিছু রাইস মিল এবং আধিকারিকদের একাংশের সঙ্গে ফড়েদের যোগসাজশের অভিযোগ উঠত। ধানক্রয়ে ওই অনিয়মের অভিযোগ দূর করতেই তৎপর সরকার। ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক অবশ্য বলেছেন, ধান ক্রয়কেন্দ্রের বিষয়টি পারচেজ অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সরকারি আধিকারিকরা দেখেন। যাবতীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁদেরকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।