


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পণ্য ও পরিষেবা আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে একবার জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক হওয়া জরুরি। কিন্তু গত প্রায় এক বছর সেই বৈঠক হয়নি। আগামী কাউন্সিল মিটিং কবে হবে, তা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। সূত্রের খবর, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত জুলাই মাসে ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসায় কলকাতায় সেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু চলতি মাসেও এ বিষয়ে রা কাড়েনি অর্থমন্ত্রক। বেশি কিছু ইস্যু ওই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। তা থমকে থাকায় ক্ষোভ জমেছে ব্যবসায়িক মহলে।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে একযোগে বহু পণ্য ও পরিষেবায় করের হার পরিবর্তন করা হয়। জিএসটি কমার ফলে বেশ কিছু জিনিসের দামও কমে। পাশাপাশি জিএসটির করকাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু সেটিই ছিল এখনও পর্যন্ত শেষ বৈঠক। জিএসটি আইনের ‘বিজনেস রেগুলেশন’-এর ৬ নম্বর রুল অনুযায়ী, প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার জিএসটি বৈঠক হওয়ার কথা। অর্থাৎ বছরে চারটি বৈঠক করতেই হবে, এমন বিধি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সেই নিয়ম যে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে, তা নয়। কিন্তু এবার বছর পার হতে চলায় বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী বৈঠকে জিএসটি আইনের সরলীকরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ইনভার্টেড ডিউটি স্ট্রাকচার’, যা নিয়ে শিল্পমহলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে রয়েছে। যখন কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বেশি হারের জিএসটি মিটিয়ে কাঁচামাল কিনতে হয় এবং কম হারের জিএসটিসহ উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে হয়, সেক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়। এটিকেই ‘ইনভার্টেড ডিউটি’ বলা হয়। এক্ষেত্রে যেমন একদিকে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট মেলে না, তেমনই কাঁচামালে বেশি হারে জিএসটি মেটানোর ফলে কার্যকরী মূলধন আটকে থাকে। এই সমস্যা নিয়ে অর্থমন্ত্রকে বারবার দরবার করেছে শিল্পমহল। আশা, আসন্ন কাউন্সিল বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু এখনও তার দিনক্ষণই স্থির হয়নি। তা কবে হবে, জানা নেই কারও।