


পক্ষে:
তিয়াশা পোদ্দার: বর্তমানে অর্থনৈতিক ভাবে মানুষ এত দুর্বল হয়ে পড়েছেন, বিশেষ করে অনলাইন কেনাকাটার ব্যবস্থা মানুষের স্বাভাবিক রোজগারে থাবা বসিয়েছে। আগে আমাদের এত অপশন ছিল না। তখনও আমরা ফুটপাত থেকে সেলের বাজার করে খুশি হয়েছি। ফুটপাতে সেলের গমগম করা বাজার আজকাল চোখেই পড়ে না। কীভাবে ওই বিক্রেতারা সংসার চালাবে এই দুর্দিনের বাজারে? একটু ভাবা উচিত।
মিলিতা সমাদ্দার (ছাত্রী): বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ শপিং মল বা অনলাইন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকলেও, সেখানে দরাদরি করার সুযোগ একদমই থাকে না। সেদিক থেকে ফুটপাতের বাজার সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে আক্ষরিক স্বর্গরাজ্য। এখানে নামী ব্র্যান্ডের উদ্ধৃত্ত পণ্য বা রপ্তানিযোগ্য পোশাক অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। এছাড়া নিজের চোখে দেখে, মান যাচাই করে এবং পছন্দমতো দরদাম করে কেনার যে সুবিধা এখানে আছে, তা অন্যত্র বিরল। পাশাপাশি, এই বাজার হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয়ের প্রধান উৎস।
দেবদত্তা রায়: ফুটপাতের বাজার— যেখানে জীবনের হিসেব মেলে মনের দামে। আর পণ্যের দাম মেলে হাসির বিনিময়ে। তাই বলা যেতেই পারে, ফুটপাতের এই ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখে। ছোটো ব্যবসায়ীদের উপকার হয় এবং এরই মাধ্যমে কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে এক সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফুটপাতের বাজার মধ্যবিত্তদের সাশ্রয়ের ঠিকানা। যেখানে কম টাকায় তারা মনের মতো জিনিস কেনাকাটা করতে পারে এবং এর সুবিধা হয়তো শপিং মলে চাইলেও পাওয়া যাবে না। তাই সবমিলিয়ে ফুটপাতের বাজার শুধুমাত্র কেনাকাটাই নয়, একটা সামাজিক অভিজ্ঞতা যেখানে বাজেটের হিসেব মেলে হাসি মুখে।
স্কুল ছাত্রী
বিপক্ষে:
দেবব্রত রায়: ফুটপাতে সেলের বাজারে কেনাকাটা অনেক ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। যেমন খোলা রাস্তায় ধুলোবালির মধ্যে পণ্য সাজানো থাকে। বিশেষ করে শিশুদের পোশাক ও প্রসাধনী ফুটপাতের থেকে কেনা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফুটপাত মূলত পথচারীদের হাঁটার জায়গা। সেখানে দোকান বসানোর পরে মানুষের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। ফুটপাতে কেনাকাটা করার সময় ট্রায়াল রুম, ফ্যান বা এসির সুবিধা থাকে না। ফলে তীব্র গরমে বা বৃষ্টিতে সেখানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করা বেশ অস্বস্তিকর। সাধারণত বড় শোরুম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে কেনাকাটা করলে পছন্দ না হলে বা মাপের সমস্যা থাকলে তা পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে। কিন্তু ফুটপাতে একবার টাকা দিয়ে পণ্য কেনার পরে সাধারণত তা আর ফেরত বা পরিবর্তন সম্ভব হয় না। পণ্যের গুণমান অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের ও স্থায়িত্ব কম হয়। ফুটপাতে কোনো নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা থাকে না। এসব দিক থেকে বিচার করলে ফুটপাতে কেনাকাটা বাঞ্ছনীয় নয়।
ছাত্র
কঙ্কনা বোস: ফুটপাতের সেলে প্রায়শই নিম্নমানের বা নকল পণ্য বিক্রি হয়, যার স্থায়িত্ব কম এবং ব্যবহারও অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোনো গ্যারান্টি না থাকায় পণ্য নষ্ট হলে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কির কারণে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেক
অসুবিধা হয় এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এছাড়া বিশৃঙ্খলার কারণে ঠিকভাবে পণ্য বাছাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, অনলাইন সেলে ঘরে বসেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আসল পণ্য তুলনা করে কেনা যায়, সঙ্গে রিটার্ন ও রিফান্ডের সুবিধাও থাকে। তাই শুধুমাত্র সস্তার জন্য ফুটপাতের সেলকে ভালো বলা যুক্তিযুক্ত নয়।
ছাত্রী
নিমাই চরণ নায়ক : চৈত্রমাসে সাধারণত বড়ো, ছোটো দোকানের বা ফুটপাতের জামাকাপড় ‘সেল’-এ বিক্রি হয়। নাতির জন্য ফুটপাতে একটা সাদা টি-শার্ট পছন্দ করলাম, যেটার বুকের উপর ‘বেস্ট অব লাক’ লেখা ছিল। দোকানদারকে দাম জিজ্ঞাসা করতে চারশো টাকা বলল। ফুটপাতে জিনিস কিনতে হলে দরদাম করতে হয় জানতাম। তাই শেষে দেড়শো টাকায় রফা হল। টি-শার্ট দেখে নাতি খুশি। সেদিনই জামাটা জলে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ পরে তুলে দেখি, টি-শার্ট রঙিন হয়ে গিয়েছে এবং বুকের উপর লেখাটা অস্পষ্ট। নাতিকে বললাম, ব্যাড লাক। সেদিন থেকে ফুটপাতের জিনিসকে গুডবাই জানালাম।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক