


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ২০১৯ সালে চালু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনা। বিগত পাঁচ বছরে এই প্রকল্প নিয়ে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। তাই এখন পঞ্চায়েতিরাজ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের সাহায্য নিয়ে প্রকল্প সফল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন্দ্র। আর ভোটমুখী বাংলায় এর মাধ্যমে তারা রাজ্য সরকারের পরিকাঠামো কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রের সাফল্য দোরে দোরে প্রচারের ফন্দি এঁটেছে বলে অভিযোগ। কারণ, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যখন কড়া নাড়ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী মনধন যোজনাকে সামনে রেখে রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি) চালুর ‘ফতোয়া’ জারি করেছে নয়াদিল্লি। ৩১ মার্চের মধ্যে মোদির ছবি লাগানো সিএসসি চালু এবং মানধন প্রকল্প নিয়ে প্রতিটি গ্রামে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। শুধু তাই নয়, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই প্রচার শেষের টার্গেট পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছে তারা।
ষাটোর্ধ্ব অসংগঠিত শ্রমিকদের পেনশন দিতে ২০১৯ সালে এই প্রকল্প চালু করে কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রক। সম্প্রতি তারা এনিয়ে বাড়তি তৎপর হয়ে উঠেছে বলে খবর। সেই কারণে চিঠি দেওয়ার তিন দিনের মাথায়, শুক্রবার রাজ্যের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে আগামী দেড় মাসের কর্মসূচি জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। যা নিয়ে বিস্তর শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। কারণ, অসংগঠিত শ্রমিকদের কল্যাণে এরাজ্যে রয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আনঅর্গানাইজড সেক্টর ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার আইন ২০০৭’। সেই সঙ্গে ১ কোটি ৮৩ লক্ষ অসংগঠিত শ্রমিক বর্তমানে রাজ্যের ‘বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা’র নানা সুবিধা পাচ্ছেন। ৬০ বছর পর তাঁদের পেনশনও সুনিশ্চিত। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ খরচই বহন করে রাজ্য সরকার। যেখানে কেন্দ্রের মানধন পেনশন প্রকল্পে উপভোক্তাকে বহন করতে হয় প্রিমিয়ামের ৫০ শতাংশ টাকা। এছাড়া, কেন্দ্রের সিএসকে’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আধার আবেদন সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করা যায়। কেন্দ্রের আওতাধীন এই কেন্দ্রগুলিতে যেহেতু পরিষেবা দিতে টাকা নেওয়া হয়, তাই বিনামূল্যে একই পরিষেবা দিতে ‘বাংলা সহায়তা কেন্দ্র’ চালু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৩,৫৬১টি বিএসকে রয়েছে। শীঘ্রই আরও ১,৪৩১টি চালু হবে। ফলে বিএসকে নেই, এমন একটিও গ্রাম পঞ্চায়েত অবশিষ্ট থাকবে না। এখানে আরও একটি প্রশ্ন উঠছে। এই কারণেই কি রাজ্যের বিএসকেগুলিতে আধার পরিষেবা চালুর অনুমোদন আটকে রেখেছে কেন্দ্র?
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘এখানে কেন্দ্র ওদের দু’টি প্রকল্পের কথা বলছে। একটি অসংগঠিত শ্রমিকদের পেনশন আর একটি প্রতিটি পঞ্চায়েতে সিএসকে চালু করা। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, দু’টিতেই গরিব প্রান্তিক মানুষ ট্যাঁকের কড়ি খরচ করলে তবেই কিছু সুবিধা পাবেন। আর এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা একই প্রকল্পে নিখরচায় তার থেকে বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কেন আমরা ওদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলব? আসলে ওরা রাজ্য প্রশাসনের কাঁধে চেপে নির্বাচনি ফায়দা তুলতে চাইছে।’