


বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য: এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার! চলতি মরশুমে আইএসএল অনিশ্চিত। ইতিমধ্যেই কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবলার-কোচেদের বেতনও বন্ধ রেখেছে। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে তাই একইসঙ্গে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। আসলে ঘুণ ধরেছে গোটা সিস্টেমে। এর দায় কার? ব্যক্তিগত মত, আইএসএল শুরুর দিনেই ভারতীয় ফুটবলের মৃত্যু পরোয়ানা লেখা হয়েছিল। টাকার নেশায় বুঁদ হয়ে কার্যত নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে ফেডারেশন। এখন যত দোষ নন্দ ঘোষের মতো দায় বর্তাচ্ছে কল্যাণ চৌবের উপর। কিন্তু শুধুমাত্র কল্যাণকে বলির পাঁঠা বানানো বৃথা। ওকে কাঠগড়ায় তুলে বাকিদের সাধু সাজার জায়গা নেই। ভারতীয় ফুটবলের অন্তর্জলি যাত্রার জন্য সবাই দায়ী।
দেশের এক নম্বর লিগে অবনমন নেই। দল চালাতে হাতি পোষার খরচ। আকাশছোঁয়া লোকসানের বোঝা বইতে বইতে জিভ বেরিয়ে পড়ছে অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির। যে কোনও দিন দল তুলে নিতেও পারেন তারা। অথচ আখের গোছানোর তাড়নায় রাশ টানার চেষ্টা করেনি ফেডারেশন। ভিত নড়বড়ে হলে বাড়ি তো ভেঙে পড়বেই। ভয় হয়, পরবর্তী প্রজন্ম আদৌ ফুটবল খেলার আগ্রহ দেখাবে তো? ফেডারেশনের অন্দরেও কাজিয়া তুঙ্গে। সংবিধান বদল নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। তা এতদিনেও চালু করার আগ্রহ দেখাননি কেউই। ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে ফুটবলই ব্রাত্য। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গড়ার বদলে গিমিকের রাস্তায় হেঁটেছেন কর্তারা। বাজারের পটল, আলু জোগাড়ের মতো অতি সাধারণ বিদেশি কোচকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক আগেই খালিদের মতো ভারতীয় কোচকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
ফুটবল মহলের নজর আপাতত সুপ্রিম কোর্টের দিকে। শোনা যাচ্ছে সোমবার রায় জানাতে পারে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মাঠের বদলে কোর্টের দরজায় চক্কর কাটছে ভারতীয় ফুটবল। এর চেয়ে লজ্জার আর কী-ই বা হতে পারে?
লেখক আন্তর্জাতিক ফুটবলার। মতামত ব্যক্তিগত।