


উনিশ শতকের কলকাতায় বাবুদের পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন কেমন ছিল? লিখছেন শান্তনু বসু।
লাশির প্রান্তরে কালান্তরের তোপ দেগেছিলেন ক্লাইভ। তিনিই ১৭৬৫-তে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে বাংলা বিহার ওড়িশার দেওয়ানি আদায় করে নিলেন। এর সাত বছর পর মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত হল দেওয়ানখানা। পোক্ত হল ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত। ১৭৭৪ সালে গভর্নর জেনারেলের পদে অধিষ্ঠিত হলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। পাকাপাকিভাবে রাজধানী হয়ে উঠল কলকাতা। সে কলকাতার কেতাই আলাদা।
‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’য় কালীপ্রসন্ন সিংহ লিখেছেন, ‘...নবাবী আমল শীতকালের সূর্য্যের মত অস্ত গ্যালো। মেঘান্তের রৌদ্রের মত ইংরাজদের প্রতাপ বেড়ে উঠ্লো। বড় বড় বাঁশঝাড় সমূলে উচ্ছন্ন হলো। কঞ্চিতে বংশলোচন জন্মাতে লাগলো। নবো মুন্সি, ছিরে বেণে ও পুঁটে তেলি রাজা হলো।...কৃষ্ণচন্দ্র, রাজবল্লভ, মানসিংহ, নন্দকুমার, জগৎশেঠ প্রভৃতি বড় বড় ঘর উৎসন্ন যেতে লাগ্লো,... হাফ আখড়াই, ফুল আখড়াই, পাঁচালি ও যাত্রার দলেরা জন্ম গ্রহণ কল্লে।...’
এভাবেই আঠারো শতক গেল, উনিশ শতক এল। মুর্শিদাবাদ দরবার ও কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার মধ্যযুগীয় অবক্ষয়ী সংস্কৃতি এসে ভর করল কলকাতার হঠাৎ বিত্তবান বাবুদের ঘাড়ে। প্রকট হল ‘বাবু কালচার’। কলকাতার এই বাবুদের সংজ্ঞায়িত করলেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ছড়াকার —
ঘুড়ি তুড়ি যশ দান
আখড়া বুলবুলি মনিয়া গান
অষ্টাহে বনভোজন
এই নবধা বাবুর লক্ষণ ॥
আবার ওই একই সময়ে নবজাগরণের আলোয় আলোকিত হল তমসাবৃত সমাজ। একদিকে কালো। আরেকদিকে আলো। নবজাগরণের তরঙ্গ বিক্ষোভে ধুয়ে গেল কালিমা। জগৎসভায় গৌরবান্বিত হল বাঙালি।
আলো-আঁধারের এই বৈপরীত্যে ভরপুর উনিশ শতক নিয়ে বাঙালির কৌতূহলের যেন অন্ত নেই। ওই সময়ের দিনযাপন চিত্রের মধ্যে বাঙালি আজও খুঁজে বেড়ায় তার অতীত ঐতিহ্যকে। যার পোশাকি নাম সাবেক বাঙালিয়ানা। ১৪৩৩ সালে পৌঁছে ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে কেমন ছিল উনিশ শতকের কলকাতায় বাবুদের পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন। উনিশ শতকে প্রবেশের আগে বাংলা বছরের সূচনার ইতিহাস ও নববর্ষবরণের ঐতিহ্য বিষয়ে একটু আলোকপাত করা দরকার।
পৌরাণিক যুগে বছর আরম্ভ হত শীতের শুরুতে। নতুন ফসল ওঠার সময় থেকে। বছরের প্রথম মাস ছিল অগ্রহায়ণ। ওই মাসেই তো নবান্ন হয়। পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতিতে অগ্রহায়ণ এখনও বছরের প্রথম মাস।
বাংলা অধিকার করার পর মোগল বাদশা আকবর রাজস্ব সংগ্রহ ও রাজ্যশাসনের জন্য হিজরিকে বর্ষ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এতে একটা সমস্যা দেখা দিল। হিজরি বছর তিনশো চুয়ান্ন দিনে। ফলে নববর্ষ বছর বছর এগারো দিন করে এগিয়ে যায়। এই অসুবিধা দূর করতে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনের ফসলি সাল চালু করলেন আকবর। এই ফসলি সালই আমাদের বাংলা বছর। যার শুরুয়াত পয়লা বৈশাখ।
৯৬৩ হিজরি, ইংরেজি ১৫৫৬ সাল। ওই বছর মহরম ও পয়লা বৈশাখ একই দিনে পড়েছিল এবং সেখান থেকেই বাংলা সনের গণনা শুরু।
পয়লা বৈশাখে পালিত হত পুণ্যাহ— রাজস্ব আদায়ের বার্ষিক বন্দোবস্তের উৎসব। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘... সেদিন যাকে বলে জমিদারি সেরেস্তার পুণ্যাহ, খাজনা আদায়ের প্রথম দিন। কাজটা নিতান্তই বিষয় কাজ। কিন্তু জমিদারি মহলে সেটা হয়ে উঠেছে পার্বণ। সবাই খুশি। যে খাজনা দেয় সেও, আর যে খাজনা বাক্সেতে ভর্তি করে সেও। এর মধ্যে হিসেব মিলিয়ে দেখবার গন্ধ ছিল না। যে যা দিতে পারে তাই দেয়।...’
১৮৯২ সালে আর একটি চিঠিতে সাজাদপুর থেকে জমিদার রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘...আজ আমাদের এখানে পুণ্যাহ — কাল রাত্তির থেকে বাজনা বাজছে।...’ পয়লা বৈশাখে জমিদারি সেরেস্তার উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দোকানদার, আড়তদার, ব্যবসাদারদের বছরের নতুন খাতা চালু করার উৎসব। আজও আমরা যাকে বলি হালখাতা। পুণ্যাহ থেকে হালখাতা এবং গৃহস্থের ঘরে ঘরে কিছু মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান এরই মধ্যে দীর্ঘকাল সীমাবদ্ধ ছিল বাঙালির বর্ষবরণ। ওই বিশেষ দিনটি উদ্যাপনের আনন্দে মহাসমারোহে আম-বাঙালির মেতে ওঠা আরও পরের ঘটনা।
ডঃ সুকুমার সেনের মতে, ইংরেজ অনুকরণে শুরু হয় বাঙালির নববর্ষ উৎসব। সাড়ম্বরে দুর্গোৎসব পালনের মতোই এরও পথিকৃৎ কলকাতার বাবুসমাজ। পয়লা জানুয়ারি সাহেবদের উপহার পাঠাতেন মুৎসুদ্দি, বেনিয়ান, কেরানিবাবুরা। সাহেবগৃহে আমন্ত্রিত হয়ে তারাও পানাহারে মেতে উঠতেন। ইংরেজি নতুন বছরের দিনে ইংরেজটোলার জৌলুস চোখ ধাঁধিয়ে দিত। ময়দানের কুচ, গড়ের বাদ্যি, লাটবাড়ির রোশনাই, ঘোড়দৌড়, হোটেল রেস্তরাঁয় রাজসিক ভোজ — সব মিলিয়ে যেন অমরাবতী হয়ে উঠত শহর কলকাতা। মহারানি ভিক্টোরিয়ার আমলে ওই দিনেই দেশি খেতাবের তালিকা বেরত। রায়বাহাদুররা আহ্লাদে আটখানা হতেন। কালীপ্রসন্ন সিংহের আমলেও গাজন ও চড়ক উৎসবের হুল্লোড়বাজির পিঠোপিঠি হাজির হওয়া পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন অনেকটাই ছিল জৌলুসহীন। হুতোম লিখেছেন, ‘...ইংরেজরা নিউ ইয়ারে বড় আমোদ করেন। আগামীকে দাড়াগুয়া পান দিয়ে বরণ করে ন্যান— নেশার খোঁয়ারির সঙ্গে পুরাণকে বিদায় দেন। বাঙ্গালিরা বছরটি ভাল রকমেই যাক আর খারাবেই শেষ হক সজনে খাড়া চিবিয়ে ঢাকের বাদ্দি আর রাস্তার ধুলো দিয়ে পুরাণকে বিদায় দ্যান। কেবল কলসি উচ্ছুগ্গু কর্ত্তারা আর নতুন খাতাওয়ালারাই নতুন বৎসরের মান রাখেন।...’
কলকাতা শহরের বাবুরা অতি আমোদপ্রিয়। এ বিষয়ে হুতোমের পর্যবেক্ষণ, ‘...কলকাতা সহরের আমোদ শিগগির ফুরায় না। বারোইয়ারি পুজোর প্রতিমা পুজো শেষ হলেও বারো দিন ফ্যালা
হয় না।...’
কলকাতার বাবুরা দেখলেন চড়কের পিছু পিছু আসা পয়লা বৈশাখে ইংরেজদের মতো বর্ষবরণের ধুমধাড়াক্কা বাঁধিয়ে দিতে পারলে চড়কের ফুর্তির রেশটাকে আরও একটু দীর্ঘায়িত করা যায়। ব্যাস! কলকাতায় শুরু হয়ে গেল বাংলা বর্ষবরণের ধুম। মহাসমারোহ। দুর্গাপুজোর মতোই বাংলা নববর্ষে কে কত জাঁক করতে পারেন, তাই নিয়ে বাবুতে বাবুতে শুরু হয়ে গেল প্রচ্ছন্ন লড়াই।
আহিরিটোলার ঘাটে গিয়ে কান পাতলে এখনও শুনতে পাবেন উনিশ শতকে কলকাতার বাবুদের নববর্ষ উদযাপনের ঘটা। ভুয়োদর্শী গঙ্গা ঠাকরুন সব জানেন। তিনিই বলে দেবেন।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে সেজে উঠত বিত্তবান বাবুদের বসতবাটি। দেওদার পাতায়, আম্রপল্লবে। উৎকৃষ্ট আতর ও গোলাপ জলে ধোয়া হত বাড়ি। ঘরদোর ম ম করত সুগন্ধে। কোনো কোনো বাড়িতে নহবত বসত। সদর দেউড়িতে বসত গ্যাসের আলোর তোরণ। পুরনো ঝাড়বাতি সরিয়ে লাগানো হত নতুন ঝাড়বাতি। বাহারে, জৌলুসে ঝলমলে। দেওয়ালগিরির বাতিদানও বদলে ফেলা হত। নববর্ষের আগে অনেক বাড়িতেই পড়ত রঙের নতুন প্রলেপ।
কলকাতার বাবুরা সাতসকালে গঙ্গাস্নান সেরে নতুন ঢাকাই ধুতি পরে, শান্তিপুরি উড়নি কাঁধে চড়িয়ে উৎসবে মেতে উঠতেন। বাবুর বাড়ির সকলের এমনকি ভৃত্যদেরও নতুন কাপড় জুটত।
প্রথমে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। গৃহদেবতার আরাধনা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা। কেউ কেউ ছুটতেন কালীঘাটে। কালী মায়ের প্রসাদি ফুল চরণে ঠেকিয়ে আকুতি জানাতেন — ‘সম্বৎসর সুখে রেখো মা। কায়কারবার সামলে রেখো। অসুখবিসুখ দূরে রেখো।’
দুপুরে এলাহি ভূরিভোজের আয়োজন। বাবুর গৃহে আমন্ত্রিত থাকতেন বহু অতিথি। সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক ঈশ্বর গুপ্ত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে এক বিরাট ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন। শহরের গণ্যমান্য অনেকে নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন। দ্বারকানাথ ঠাকুর, তাঁর বাগানবাড়িতে সাহেব ও মেমসাহেবদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন বাংলা নববর্ষে। এ দৃষ্টান্তও পাওয়া যাচ্ছে।
সাহেবদের আপ্যায়নের জন্য কিছু বিদেশি পদও পয়লা বৈশাখে বাবুদের বাড়ির ভোজে সাবেকি বাঙালিখানার সঙ্গে জায়গা করে নিত। দুপুরের আহার শুরু হত শাক ও বিভিন্ন ধরনের ভাজা দিয়ে। এরপর নিরামিষ পদ। কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। শুক্তো, মানকচু বাটা, ঘাটকোল বাটা, মুগ ও মুসুর ডালের বিভিন্ন রকম পদ, ছানার কাটলেট, ছানার ডালনা ইত্যাদি। আমিষ পদের মধ্যে রুই-কাতলা-চিতলের কালিয়া, সিম বেগুন ট্যাংরার ঝোল, পাঁউটি মাছের ঝাল, মাটন কাটলেট, পাঁঠার মাংসের ঝোল ইত্যাদি। বিনস গাজর, পেপে আলু পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি হত স্টু। সাদা ভাতের সঙ্গে থাকত পোলাও। মিষ্টির পদের মধ্যে থাকত মালপোয়া, রাবড়ি, পায়েস, দুধ ও গাজরের হালুয়া, হরেক রকমের রসের মিষ্টি, সন্দেশ, হরেক কিসিমের পুডিং। সাহেবরা সুস্বাদু দিশি খাবার রীতিমতো চেটেপুটে খেয়ে যেত।
নববর্ষে কে কত আমোদ-আহ্লাদের আয়োজন করতে পারেন, এ নিয়ে বাবুদের একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার কথা আগেই উল্লেখ করেছি। পয়লা বৈশাখে দরাজ হাতে খরচ করতেন পোস্তার রাজা সুখময় রায়। গরিব-দুঃখীদের তিনি দান করতেন। লুচি, মাংস, কোপ্তা আর পাটালিগুড়ের পায়েস দিয়ে তিনি কাঙালি ভোজন করাতেন। তবে শোনা যায়, খরচের ব্যাপারে সবচেয়ে দরাজ হস্ত ছিলেন তনুবাবু। হাটখোলার মদনমোহন দত্তের বড়ো ছেলে। লোকে বলত, ‘বাবু বটে তনুবাবু’। নববর্ষে ঢাকা থেকে আসত তাঁর পরনের ধুতি। কোমরে যাতে দাগ না পড়ে সেই জন্যে ধুতির পাড় কেটে পরতেন তনুবাবু। তাঁর বাড়ির লোকেরা বছরের প্রথম দিনে সোনা, রুপোর থালা-গ্লাস-বাটিতে খেতেন। তনুবাবু বহু মানুষকে ভোজও খাওয়াতেন ঘটা করে। তাঁর বাড়িতে হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান সবাই আমন্ত্রিত থাকত।
পয়লা বৈশাখে বাবুদের বাড়িতে গান-বাজনার আসর বসত রাত্রে। অতিথি আপ্যায়নের জন্য থাকত অঢেল মদের জোগান। দামি বিলিতি মদ। কোথাও বসত বাইনাচের আসর। কোথাও আসর জমাত আখড়াই, হাফ আখড়াই, ঝুমুর, খ্যামটা, কৃষ্ণযাত্রা, বিদ্যাসুন্দর যাত্রার দল। কোনো কোনো বাবুর বাড়িতে আসর মাত করত কবিয়ালেরা। চাপান-উতোরে রাত কাবার। বাবু আহ্লাদে গদগদ।
অনেকে আবার একান্তে বাইজি সঙ্গ লাভ করতে ছুটতেন লোকচক্ষুর আড়ালে — বাগানবাড়িতে। বাইজি বগলদাবা করে মোসাহেব-সহ কেউ কেউ বজরা নিয়ে ভেসে পড়তেন গঙ্গায়।
এই মোটামুটি উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিত্তবান বাঙালিবাবুদের বর্ষবরণের চেহারা। বিত্তের ঝংকার, উদ্দাম হুল্লোড়, মদের ফোয়ারা ও স্থূলরুচির বিনোদনের ঐকতানে তার বহিঃপ্রকাশ।
তবে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির বর্ষবরণ বরাবরই মার্জিত। ঠাকুরবাড়ির অন্য অনেক বিষয়ের মতোই বাঙালির কাছে আইকনিক। বাবুসংস্কৃতির বর্ষবরণ থেকে স্বতন্ত্র। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে পয়লা বৈশাখের খাওয়াদাওয়া হত বাড়ির দোতলার টানা বারান্দায়। তেতলায় থাকতেন রবীন্দ্রনাথ। টানা বারান্দায় মেঝেতে কার্পেটের আসন লম্বা করে বিছিয়ে তার সামনে কলাপাতা বিছিয়ে মৃৎপাত্রে পরিবেশিত হত ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ, চালতা দিয়ে মুগের ডাল, নারকেল-চিংড়ি, মাছের পোলাও ও আরও অনেক সুস্বাদু খাবারদাবার।
শান্তিনিকেতনে আশ্রম প্রতিষ্ঠার পর বাঙালির বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে এলেন অভিনবত্বের ছোঁয়া। মননশীলতার পরশ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি নাচ, গান, নাট্যাভিনয়ের মধ্যে দিয়ে উদ্যাপিত হয়ে নতুন মাত্রা পেল। পয়লা বৈশাখ কবির কাছে ছিল নবজন্মের দিন। জীর্ণ পুরাতনকে কালস্রোতে ভাসিয়ে দিয়ে নতুনকে আবাহনের দিন। ১৯৩৯ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিন শ্যামলী প্রাঙ্গণে কবিগুরু তাঁর ভাষণে বললেন, ‘...নববর্ষ— ধরতে গেলে রোজই তো লোকের নববর্ষ। কেননা, এই হচ্ছে মানুষের পর্বের একটা সীমারেখা। রোজই তো লোকের পর্ব নতুন করে শুরু।...’ বিশ শতকের গোড়ায় নববর্ষ উদ্যাপনে রুচিশীলতা ও শৈল্পিক মননের যে সুর বেঁধে দিয়ে গেলেন রবীন্দ্রনাথ, পয়লা বৈশাখের প্রভাতফেরিতে বাঙালি আজও তার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।