


সুকান্ত বসু,কলকাতা: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধক ও পকসো আইনে কলকাতায় প্রথম দোষী সাব্যস্ত হল এক যুবক। শনিবার শিয়ালদহের বিশেষ পকসো আদালত অভিযুক্ত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে। সোমবার তার সাজা ঘোষিত হবে। মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অসীম কুমার দাবি করে বলেন,‘এর আগে পকসো মামলায় একাধিক সাজা হয়েছে এই আদালতে। কিন্তু এই মামলাটি একটু ভিন্নধর্মী। এ ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সি ওই যুবক আইন ভেঙে এক নাবালিকাকে বিয়ে করেন। পরে ওই নাবালিকা এক সন্তানের জন্ম দেয়। আর সেই অপরাধে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধক ও পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই অভিযুক্ত যুবক এদিন দোষী সাব্যস্ত হল। যা এক কথায় নজিরবিহীন ঘটনা। অনেকেরই বক্তব্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাল্য বিবাহ রোধে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। পরিসংখ্যানের নিরিখে বাল্য বিবাহের নিরিখে শীর্ষস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। সেদিক থেকে এই রায় অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে করেন সরকারি কৌঁসুলিদের একাংশ।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে চিৎপুর থানা এলাকায় এক যুবক এক নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে গোপনে বিয়ে করে। কিশোরীর বয়সের বিষয়টি চেপে যাওয়া হয়। পরে কিশোরী সন্তানের জন্ম দেয়। জন্ম সংক্রান্ত নথি থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, শিশুটির মা একজন নাবালিকা। এরপরই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ ও পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত যুবককে। পুলিশ তদন্ত শেষ করে শিয়ালদহ আদালতে চার্জশিট পেশ করে। চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। মামলায় সাক্ষ্য দেন হাসপাতালের চিকিৎসক সহ একাধিক ব্যক্তি। যদিও মামলার সওয়াল চলাকালীন অভিযুক্ত যুবক আদালতে দাবি করে, তারা ভালোবেসে দু’জনের সন্মতিতেই বিয়ে করেছে। তাই সমস্ত কিছু বিচার‑বিবেচনা করে তাকে যেন মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।’ কিন্তু সরকারি কৌঁসুলি অসীমবাবু আদালতে তাঁর সওয়ালে বলেন, ‘আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। বাল্যবিবাহ আইন বিরুদ্ধ কাজ। তাই অভিযুক্ত যে কাজ করেছে, তা অপরাধেরই শামিল। তাই তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করুক আদালত।’