


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার দিল্লিমুখী হল রাজ্যের চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আন্দোলন। সোমবার ধর্মতলা থেকে একটি বাসে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ৬০ জন চাকরিহারা। পাশাপাশি, বেশকিছু চাকরিহারা দিল্লি যাচ্ছেন ট্রেনে চেপেও। প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষকদের সংগঠন চাকরিহারাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত ছিল। এদিন সন্ধ্যায় বাস তখন রানিগঞ্জ পেরিয়েছে। বাসে থাকা চাকরিহারাদের মঞ্চের নেতা চিন্ময় মণ্ডল জানান, বুধবারই দিল্লি পৌঁছতে পারেন তাঁরা। সেখানে যন্তরমন্তরে ধর্না কর্মসূচি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি, বিরোধী দলনেতা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। মাঝপথে নিজেদের আন্দোলনের প্রচারও লিফলেট বিলির মাধ্যমে করবেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আবেদনের শুনানি রয়েছে। সেটিও প্রত্যক্ষ করার জন্য উপস্থিত থাকবেন বেশকিছু আন্দোলনকারী। পাশাপাশি তাঁদের এই পরিস্থিতি নিয়ে জনমত তৈরি এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টাও চলবে।
প্রসঙ্গত, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আবেদন জানিয়েছে স্কুলের পঠনপাঠনের কথা মাথায় রেখে অন্তত এই শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত যেন শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের নির্দেশটি স্থগিত রাখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কী নির্দেশ আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চাকরিহারারা। তবে, ইতিবাচক রায় হলে পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের জন্য বাড়তি সময় মিলবে বলেই মত তাঁদের।
রাজ্য সরকারকে চাপে রাখতে কিছুটা কৌশল বদলেছেন চাকরিহারারা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে তাঁরা স্কুলে যাওয়া শুরু করলেও অনেকেই এখন তা বন্ধ করে দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলে ২৫ জন শিক্ষককে কর্মচ্যুত হতে হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন এখনও নিয়মিত আসছেন। তবে, আইনজ্ঞদের দাবি, এতে সরকারেরও সুবিধা হবে। এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষক রাতারাতি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করলে সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি ঠেকাতে উদ্যোগী হবে সর্বোচ্চ আদালতও। রাজ্য সরকারকে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করতে ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা শিক্ষাদপ্তরকে পাঠিয়েছে। রিভিউ পিটিশনে এই তালিকা সর্বোচ্চ আদালতের হাতে তুলে দেবে সরকার।
এদিকে, পঠনপাঠন, স্কুল পরিচালনা এবং পরীক্ষা নিয়ে বেশকিছু ঘোষিত কর্মসূচি রয়েছে এসসিইআরটি এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের। প্রধান শিক্ষকদের জন্য অফলাইন প্রশিক্ষণ (এসএলডিপি) এমাসের শেষ সপ্তাহে শুরু করতে চলেছে এসসিইআরটি। তবে, এর সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা আপাতত ধীরে চলো নীতি নিয়েছেন। পর্ষদের মামলার শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন তাঁরা। এদিকে, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৯ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বুটস্ট্র্যাপ প্রোগ্রাম শুরু করার কথা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সচেতনতা প্রসারই এর উদ্দেশ্য। সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, পূর্ব ঘোষিত সময়েই কর্মসূচি চালানো হবে। ছবি: পিটিআই