


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: যুবসাথী প্রকল্পে অনলাইনে আবেদনকারীদের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হল মালদহে। এখন জোরকদমে চলছে অফলাইনে আবেদনকারীদের নথি যাচাই প্রক্রিয়া। তবে, তথ্যগত ত্রুটি থাকার জন্য প্রায় শতাধিক অনলাইনে আবেদনকারীর টাকা আটকে রয়েছে। যাচাই হয়ে গেলে তাঁরা টাকা পাবেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল। একইসঙ্গে অন ও অফলাইন দুই মোডেই আবেদনকারী রয়েছেন কি না, সেই তথ্য যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সবাই টাকা পাবেন। কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে সমস্যা আছে। সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ঠিক করে টাকা পাঠানো হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুবসাথী প্রকল্প ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তার শিখরে। ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই মালদহ জেলার প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার যুবক-যুবতী আবেদন করে দিয়েছেন। যার মধ্যে আড়াই লক্ষ অনলাইন এবং এক লক্ষের বেশি অফলাইনে আবেদন জমা পড়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারিতে আবেদন জানানোর পর মার্চের প্রথম সপ্তাহে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি মতো ১৫০০ টাকা ঢুকে যায়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনলাইনে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকেছে। যেহেতু অফলাইনে আবেদনকারীদের তথ্য এখনো ব্লক প্রশাসনের তরফে যাচাইয়ের কাজ চলছে, তাঁদের টাকা ছাড়া হয়নি।
মালদহ জেলায় অনলাইনে আবেদন করা সত্ত্বেও বেশকিছু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনো টাকা ঢোকেনি। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, অনেকে অনলাইনে আবেদন করার সময় প্যান, আধার কার্ড সহ অন্যান্য তথ্য সঠিক দিলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি কোড, ব্রাঞ্চ কোড সহ একাধিক বিষয়ে ভুল আপলোড করেছেন। ফলে তাঁদের টাকা দেওয়া যায়নি। এই ধরনের উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় শতাধিক। তাঁদের জন্য প্রশাসনের তরফে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন আবেদনের অ্যাকনলেজমেন্টের সঙ্গে একটি আবেদন করতে হচ্ছে। এরপর প্রশাসনের তরফে তথ্য যাচাই করে তাঁদের টাকা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার মালদহ জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের তিনতলায় এসে যুবসাথীর প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করেন মালদহের কুম্ভীরার বাসিন্দা রঞ্জিত প্রামাণিক। তিনি বলেন, অনলাইনে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলাম। অন্যদের ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টে টাকা ঢুকলেও আমি পাইনি। এখানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে।
ইংলিশবাজার শহরের মহানন্দাপল্লির বাসিন্দা আস্থা গৌতমের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
• ফাইল চিত্র।