


সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে দ্বিতীয় বছরের রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ১৬জুলাই রথযাত্রা। তার আগে আগামী কাল, ২৯জুন সোমবার স্নানযাত্রা। সেদিন থেকেই শুরু হচ্ছে রথযাত্রার উৎসবের ‘কাউন্টডাউন’।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূণ্য স্নানযাত্রা এবারও যাবতীয় নিয়ম-আচার মেনে অনুষ্ঠিত হবে। গতবছরের মতো স্নানযাত্রার দিন প্রচুর ভক্ত ভিড় জমাবেন। মূল মন্দিরের বাইরে বিশেষ মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। সেখানেই বসবে স্নানের আসর। সকালে মহাসমারোহে শুরু হবে ‘পাহাণ্ডি বিজয়’ উৎসব। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তিকে ওই বিশেষ মণ্ডপে আনা হবে। ১০৮টি তীর্থক্ষেত্রের জল সহযোগে স্নান করবেন জগন্নাথদেব ও তাঁর ভাইবোনেরা। স্নানের শেষে বিগ্রহের গজবেশ সম্পন্ন হবে। তারপর দেবদেবীদের ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন করা হবে। ২৯জুন থেকে ১৩জুলাই অবধি ‘অনসর’ পর্ব চলবে। অর্থাৎ স্নানের জেরে জ্বরে পড়বেন স্বয়ং জগন্নাথদেব সহ বলরাম ও সুভদ্রা। তখনই শুরু হবে পক্ষকালব্যাপী অনসর-পর্ব। অসুস্থতার কারণে তাঁরা সাধারণের দর্শন থেকে দূরে সরে থাকবেন। অনসর উপলক্ষ্যে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার দর্শন বন্ধ থাকবে। তবে মন্দির যথারীতি খোলা থাকবে। এই সময়ে শ্রীরাধা, মদনমোহন ও শ্রীশ্রী নিতাই ও চৈতন্য মহাপ্রভু দর্শন দেবেন। কমলা(লক্ষ্মী), বিমলা ও নৃসিংহদেবের দর্শনও যথারীতি চালু থাকবে। জগন্নাথদেবের নবযৌবন প্রথা হবে ১৪জুলাই। ১৬জুলাই রথযাত্রার আগের দিন ১৫তারিখ থেকে পুনরায় জগন্নাথদেবের দর্শন করতে পারবেন ভক্তরা। রথযাত্রার দিন বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করবেন জগন্নাথদেব। এবারও রথযাত্রার দিন ভক্তদের ব্যাপক ভিড় হবে বলে আশা করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ সহ পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা। তারজন্য সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে।
মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা উৎসব সফল করার জন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে মন্দির চত্বরে থাকা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পৃথক তিনটি রথে রঙের প্রলেপ পড়েছে।