


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুরফুরে হাওয়া চলছে সারাদিন ধরে। রবিবার এমন বসন্তদিনে সাধারণ মানুষ সাধারণত ময়দানে যায়। সবুজ ঘাসে শরীর এলিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এমন দিনই চায় বাঙালি। এদিন তেমনই ভেবেই সকলে গিয়েছিলেন ময়দানে ছুটি কাটাতে। কিন্তু গিয়ে ভয়ানক অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে সকলকে। ময়দানের পরিস্থিতি মোটেও অনুকূল নয়। শনিবার বিজেপির জনসভার পর শহরের ফুসফুস পরিণত হয়েছে ভ্যাটে, সর্বত্র আবর্জনা ভরতি। শুধু আবর্জনা নয়, তার সঙ্গে মারাত্মক দুর্গন্ধ। হাওয়ায় উড়ছে অজস্র প্লাস্টিক। বায়ো টয়লেটের দরজা উত্তাল হাওয়ায় বারবার যাচ্ছে খুলে। সেখান থেকে ভয়ানক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে বিজেপির সভার দৌলতে রবিবারের ময়দান হাঁটার অযোগ্য, বসার অযোগ্য, শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য। সর্বত্র শুধুই দুর্গন্ধ আর উড়তে থাকা নোংরা প্লাস্টিক।
রবিবার বিকেলে ময়দানে দেখা গিয়েছে, পুরকর্মীরা ঝাঁটা দিয়ে সাফ করার কাজ করছেন। জানা গিয়েছে, ৫০ সাফাইকর্মী সকাল থেকে পরিষ্কারের কাজে শুরু করেন। সভামঞ্চ থেকে শুরু করে গোটা মাঠ সাফ করতে করতে এগিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু প্রবল হাওয়ার কারণে সাফাই কাজে বেগ পেতে হয়েছে। রবিবার ছুটির দিন বলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ভিড় থাকে ময়দান চত্বরে। তরুণ-তরুণীরা ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুলতে আসেন। এদিনও এসেছিলেন সকলে। কিন্তু ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে মাঠ সাফ হওয়ার অপেক্ষায়। বারাকপুর থেকে এসেছিলেন একদল তরুণ-তরুণী। তাঁরা মুখে রুমাল চাপা দিয়ে কোনওরকমে বসলেন ময়দানের ঘাসে। এক তরুণী বললেন, ‘বায়ো টয়লেটগুলো থেকে এই দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। এখানে আর বসে থাকা যাচ্ছে না।’ তাঁরা প্রশ্ন তুললেন, মাঠ ব্যবহারের পর কেন সঙ্গে সঙ্গে পরিস্কার করেনি বিজেপি? তরুণদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সভার পর মাঠকে মানুষের ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলা। এখনও সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাবারদাবার। তা পচে গিয়ে বেরচ্ছে দুর্গন্ধ।
শুধু তো আর সাধারণ মানুষের বেড়ানোর জায়গা নয় ময়দান। সেখানে ব্যাট-প্যাড পরে ক্রিকেটও খেলতে যায় শিশু-কিশোররা। এদিন খেলা চলাকালীন চলেছে সাফাইয়ের কাজ। ফলে বারবার খেলায় ব্যাঘাত ঘটেছে। মাঠের মাঝখানে দেখা গিয়েছে, জলের প্যাকেট ভর্তি বস্তার স্তূপ। তা থেকে জল গড়িয়ে কাদা হয়ে গিয়েছে কিছু জায়গা। এদিন বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু, বাঁশ খোলাখুলির কাজ চলেছে। রবিবাসরীয় বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র ময়দানের এমন চেহারা দেখে শহরবাসী রীতিমতো ক্ষুব্ধ। কলকাতার বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘এত বছর ধরে ব্রিগেড সমাবেশ হচ্ছে। প্রতিবারই নোংরা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক দলের লোকেরাই তা পরিষ্কার করে দেয়। এবারই দেখলাম, সেসব কিছুই করা হল না। এরকম হওয়া মোটেও উচিত নয়।’