


নিউ ইয়র্ক: যুদ্ধ বা বড়সড় বিপর্যয় থেকে বাঁচতে ভূগর্ভস্থ ‘শহর’ তৈরি করেছে আমেরিকা! সেখানে বিপদের সময় আশ্রয় নেবেন দেশের ধনকুবের ও শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্তারা। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রজেক্টের জন্য খরচ হয়েছে ২১ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার! একটি অনুষ্ঠানে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মার্কিন প্রশাসনের এক প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক। যদিও এবিষয়ে কোনও তথ্যপ্রমাণ পেশ করেননি তিনি। সম্প্রতি ফক্স নিউজের প্রাক্তন সঞ্চালক টাকার কার্লসনের পডকাস্টে উপস্থিত ছিলেন ক্যাথেরিন অস্টিন ফিটজ। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে আবাসন ও নগরোন্নয়ন বিভাগের সহকারী সচিব ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মার্ক স্কিডমোরের একটি রিপোর্টের উল্লেখ করেন ক্যাথেরিন। ২০১৭ সালের সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা, আবাসন ও নগরোন্নয়ন বিভাগ ‘নিয়ম বহির্ভূত’ খরচ করেছে। তাহলে কোথায় গেল ২১ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার? দীর্ঘদিন ধরে এবিষয়ে তদন্ত চালিয়েছেন ক্যাথেরিন। তাঁর দাবি, এই অর্থ দিয়ে ১৭০টি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি বাঙ্কার মহাসাগরের গভীরে। ক্যাথেরিনের কথায়, ‘ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির সংখ্যা জানার অনেক চেষ্টা চালিয়েছি। হিসেব বলছে, ১৭০টি ঘাঁটি রয়েছে। সেগুলির মধ্যে যাতায়াতের জন্য রয়েছে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থাও।’
আমেরিকায় সরকারি বাঙ্কারের বিষয়টি নতুন নয়। পেনসিলভেনিয়ার র্যাভেন রক, ভার্জিনিয়ার মাউন্ট ওয়েদার সহ বিভিন্ন জায়গায় সেগুলির দেখা মেলে। কঠিন সময়ে এই বাঙ্কারই হয়ে ওঠে ‘কমান্ড সেন্টার’। যদিও ক্যাথেরিনের দাবি, এর থেকেও বৃহত্তর গোপন নেটওয়ার্ক রয়েছে। সবকিছু শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যান কার্লসন। তিনি জানান, পরমাণু যুদ্ধের সময় সুরক্ষার জন্য শুধুমাত্র ওয়াশিংটন ডিসিতে এই ধরণের বাঙ্কার রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ক্যাথেরিন বলেন, ‘কিছুটা হয়তো রয়েছে। এটা বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুতি।’ যদিও ভূগর্ভস্থ এই শহরের ব্যাপ্তি সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।