


ভিক্টর বাগ: মহানায়ক উত্তমকুমার... বাঙালির চিরকালীন আবেগ। চলতি বছর তাঁর জন্মশতবর্ষ। বছরভর নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে স্মরণ করছে আম বাঙালি। খুব একটা পিছিয়ে নেই এই কলকাতা থেকে প্রায় ৭ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার দূরের দেশ বেলজিয়ামও। বাঙালির চিরশ্রেষ্ঠ সেলুলয়েড হিরোকে স্মরণ করে পুজোর আয়োজন হয়েছে উত্তর পশ্চিম ইউরোপের এই দেশের রাজধানী ব্রাসেলসে। উদ্যোক্তা ২০২১ সালে কর্মসূত্রে বেলজিয়ামে বসবাসকারী কয়েকজন বাঙালির উদ্যোগে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তেরো পার্বণ’। এ বছর তাদের পুজো ষষ্ঠ বর্ষে পড়ল। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রাসেলসে আয়োজিত এই দুর্গোৎসব ইতিমধ্যেই ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এ বছর ‘তেরো পার্বণ’-এর দুর্গাপুজো চারদিনের— ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর। আগামী ১৭ অক্টোবর বেদমন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। এই চারদিনে মহানায়কের জনপ্রিয় কিছু গানে নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। বিশেষ আকর্ষণ কলকাতা থেকে আগত প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা।
দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে জার্মানির শহর মিউনিখও। ২০২২ সালে কয়েকজন প্রবাসী বাঙালির হাত ধরে পথ চলা শুরু হয়েছিল ‘সনাতন মিউনিখ’। পঞ্চম বর্ষে এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় দেড়শোটি পরিবার। তাদের উমা-আরাধনার মূল আকর্ষণ সাংস্কৃতিক উৎসব। মিউনিখের ‘উন্টার হাচিং’ নামের একটি হলে ১৬, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষে অতনু ত্রিপাঠী এবং সমীরণ হালদার জানালেন, ‘নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মকে পরিচয় করার তাগিদেই নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। ছোটোরা এবার ‘ইন্দ্রের বাগান’ নামের একটি নাটক মঞ্চস্থ করবে।’ প্রতি বছরের মতো এবারও বার্লিনের এই পুজোয় অনলাইনে নিজের নানা অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ। সারাদিন ধরে পুজো, খাওয়া দাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে জমজমাট থাকবে মিউনিখ। দেশের থেকে দূরে থাকলেও আনন্দ ও উদযাপনে কোনো খামতি রাখা হবে না।
শুধু ইউরোপ নয়, পূর্ব এশিয়ায় সিঙ্গাপুরও পিছিয়ে নেই পুজো প্রস্তুতিতে। সিঙ্গাপুর ইন্ডিয়ান পুজো অ্যাসোসিয়েশনের (সিপা) দেবীবরণ এবার পঞ্চম বছরে পা দিল। আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর দুর্গাপুজোয় মেতে উঠবেন সিঙ্গাপুরের মানুষজন। উদ্যোক্তাদের পক্ষে শীর্ষেন্দু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজস্থানের সোনার কেল্লার আদলে সাজানো হয়েছে এবারের মণ্ডপ। রয়েছে পিছওয়াই শিল্পের ছোঁওয়া। পুজো উপলক্ষ্যে মণ্ডপে বসবে ডান্ডিয়া নাচের আসর। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে। ষষ্ঠীর দিন জনাইয়ের বিখ্যাত মনোহরা এবং অষ্টমীতে বাঞ্ছারামের মিষ্টি বিতরণ করা হবে। সিপার সঙ্গে যুক্ত সিঙ্গাপুরের প্রায় ৪০০ পরিবারের জন্য পুজোর ক’দিন থাকছে দেদার আড্ডা আর ভুরিভোজের ব্যবস্থাও।