


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাজনৈতিক লাভ তুলতে না পারায় শহিদদের স্মরণে ঘটা করে বেদি তৈরি করলেও হত্যাকাণ্ডের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে গ্রামে এলেন না বিজেপির কেউই। তাঁদের তৈরি বেদিতে পড়ল না ফুল। অথচ গ্রামে হাজির হয়ে তাঁদের গড়া শহিদ বেদিতে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ঘটনায় বিজেপির প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্বজনহাররা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২১ মার্চ বগটুইয়ে উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হন। ওই রাতেই নিহতর অনুগামীরা বগটুই গ্রামে ১২টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুড়ে মারা যান শিশু, মহিলা সহ মোট ১০জন। সেই ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তিতে স্বজনহারা মিহিলাল শেখের বাড়ির কয়েক ফুটের দূরে পৃথক শহিদ বেদি গড়ে বিজেপি ও তৃণমূল। দু’পক্ষই মঞ্চ বেঁধে শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান করে। ওইদিন স্বজনহারাদের বাড়ি ঢোকার মুখে বাধাপ্রাপ্ত হন এলাকার বিধায়ক তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ ছিল, বিধায়ক তাঁদের খোঁজ রাখেননি। পরে সংবাদ মাধ্যমে আশিসবাবু জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত করছে। তদন্ত যাতে ব্যাঘাত না হয়, সেজন্য সতর্ক ভূমিকা পালন করে এসেছি। তবে, গত বছর স্মরণসভায় এসেছিলেন আশিসবাবু সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। মিহিলাল তাঁদের কৃতকর্মের জন্য আশিসবাবুর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।
শনিবার চতুর্থ বর্ষপূর্তিতেও আশিসবাবু গ্রামে এসে শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে গ্রামে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসমতো মৃতদের পরিবার পিছু একজন করে সরকারি চাকরি পান। এদিন মিহিলাল আশিসবাবুর পায়ে ধরে বলেন, বাকিরা বেতন পেলেও তিনি তিনবছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। যদিও নির্বাচনী বিধি চলায় আশিসবাবু তাঁকে ভোটের পর বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
প্রথম বর্ষ পূর্তিতে বিজেপি নেতা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা গ্রামে এসে স্বজনহারাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। প্রতিবছর গ্রামে এসে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর কথাও বলেন। এবার সেই ধ্রুব সাহা রামপুরহাটের বিজেপি প্রার্থী। এদিন তিনি রামপুরহাটে প্রচার করেন। কিন্তু বগটুইয়ে আসেননি। মিহিলাল বলেন, সেই সময় বিজেপি আমাদের নিয়ে রাজনীতি করেছিল। তারা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা রাখেনি।
আর এক স্বজনহারা মেরিনা বিবি গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিজেপি নেতারা বলেছিল ভোট শেষে তিনদিনের মধ্যে আমার ছেলে পলাশ শেখকে (ভাদু খুনে অভিযুক্ত) জেল থেকে ছাড়িয়ে দেবে। সেই আশ্বাসে প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কথা রাখেনি।
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, বগটুইয়ের ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটে ওখান থেকে তাদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এবারও ফিরতে হবে।
এব্যাপারে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, মিহিলাল এখন তৃণমূলে। তাদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না দল। টাকার বিনিময়ে মিহিলালরা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সমঝোতা করেছে। এরা ‘সামাজিক গদ্দার’। বিজেপি তো ওদের বয়কট করেছে। সামাজিকভাবেও ওদের বয়কট করা উচিত।