


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘূর্ণাবর্তর প্রভাবে কাল শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বেশি থাকবে। যদিও কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর। তবে এই ঘূর্ণাবর্তটি সরে যাওয়ার পর আপাতত কালীপুজো-ভাইফোঁটা পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গসহ রাজ্যে অতিবৃষ্টির ফলে কোনও দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হবে না। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে এমন ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। তবে দুটির অভিমুখই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশা উপকূলের দিকে থাকবে না। নিম্নচাপ দুটির কারণে দক্ষিণ ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, দক্ষিণ মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত বাড়বে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে সেই ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিছু জানায়নি। তবে আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন, এদিকে নতুন করে কোনও নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্তর প্রভাব না পড়লে ১২ অক্টোবর, রবিবারের পর কোনও সময়ে রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় শুরু হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সময় হল ১০-১৫ অক্টোবর। দক্ষিণ বাংলাদেশ ও লাগোয়া উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর ঘূর্ণাবর্ত থাকার জন্য আজ, ১০ অক্টোবর থেকে রাজ্যে বর্ষা বিদায় শুরু হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে এবার কয়েকদিন দেরি হবে।
ঘূর্ণাবর্তটির জন্য কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবারও দক্ষিণবঙ্গে কলকাতা এবং অনেকগুলি জেলায় বজ্রমেঘ তৈরি হয়। দুপুরের পর কলকাতা লাগোয়া বড়ো এলাকাজুড়ে বজ্রমেঘ তৈরি হওয়ায় আবহাওয়া দপ্তর ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করে। আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রমেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার ঝড়বৃষ্টির এলাকা কিছুটা কমে উপকূল লাগোয়া এবং কাছাকাছি জেলাগুলিতে মূলত সীমাবদ্ধ থাকবে। রবিবার থেকে এরকম কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। উত্তরবঙ্গের কোনও জেলাতেই বজ্রমেঘ নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়নি।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর তাদের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের দিকে সরে যাবে। ওই এলাকায় সেটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ২২ আক্টোবর নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। ওই নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোনোর পথে শক্তি বৃদ্ধি করবে। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বর্ষা বিদায়ের পর বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে কোনও নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে সেটির শক্তি বৃদ্ধি করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অক্টোবরের একেবারে গোড়াতেই আরব সাগরে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ সৃষ্টি হলেও সেটি সমুদ্রের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়ে।