


বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য: কান্তিরাভায় ভারত বনাম পানামা ম্যাচ তখনও শুরু হয়নি। মনবীরদের মুখে জাতীয় সংগীত শুনে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। মনে অবশ্য আশা-আশঙ্কার দোলাচল। প্রতিপক্ষ হেভিওয়েট পানামা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে তারা। ব্লু টাইগার্স সম্মান রক্ষা করতে পারবে তো? সন্দেহ নেই, গোটা ম্যাচে লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করেছে খালিদ ব্রিগেড। শেষ মুহূর্তে মনবীর ফাঁকায় বল পেয়েছিল। ঠিকঠাক স্ট্রোক নিতে পারলেই গোল। উত্তেজনায় চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। আসলে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ফুটবল মানেই তো হতাশা, আপশোস। সেখানে পানামা ম্যাচ যেন কালো মেঘে বিদ্যুৎ। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ভালো কিছু করা সম্ভব। ফুটবলের হারানো জনপ্রিয়তা ফেরানোর জন্য এটাই মোক্ষম সময়। এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। আসুন না সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটা চেষ্টা করা যাক। কাগজে- কলমে অনেক এগিয়ে পানামা। স্কোয়াডে বেশ কয়েকজন বিশ্বকাপার। তবু গুটিয়ে না থেকে সমানে প্রতি-আক্রমণ চালিয়েছে মনবীররা। এখানেই কোচ খালিদের কৃতিত্ব। প্রবল প্রতিপক্ষকে ঘাড়ে ওঠার সুযোগ দেয়নি ও। কাকে ছেড়ে কার কথা বলি! আনোয়ার, মনবীর, আপুইয়া অনবদ্য। রাইট উইং ব্যাকে অভিষেক সিংয়ের কভারিং দেখার মতো। ফিটনেসেও পাল্লা দিল ভারত। ফাইন টিউন করতে পারলে এই দলের উপর ভরসা রাখা যায়।
এশিয়ান গেমসে ১৯৬২’র চ্যাম্পিয়ন ভারত। জাকার্তা গেমসের ৮ বছর পর ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন সুধীরদারা। অথচ পিকে, চুনী, বলরামের দেশ চলতি এশিয়ান গেমসে দলই পাঠায়নি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে ফুটবলারদের। মুখরক্ষার জন্য একটা ঝাঁকুনি দরকার ছিল। পানামা ম্যাচ এক আকাশ অক্সিজেন জুগিয়েছে। পরিস্থিতি কাজে লাগানো উচিত ফেডারেশনের। আটের দশকে নেহরু কাপ রীতিমতো ঝড় তুলেছিল ভারতীয় ফুটবলে। উরুগুয়ে, আর্জেন্তিনার মতো দলের বিরুদ্ধে সমানতালে টক্কর দিত ভারত। বুরুচাগা, পম্পিদো সমৃদ্ধ আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে লড়াই অনুরাগীরা নিশ্চয়ই ভোলেননি। একান্ত অনুরোধ, ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করুক সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। তাতে উদ্দীপনা বাড়বে অনেকটাই।