


তেহরান: শর্তসাপেক্ষে ইরানের তেল কেনার অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার মোকাবিলা করতেই এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা হচ্ছে। ৩০ দিনের জন্য তেহরানের থেকে তেল কিনতে পারবে অন্য দেশগুলি। ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজে ‘লোড’ করা হয়েছে, এমন তেলই ইরানের থেকে কেনা যাবে বলেও জানায় আমেরিকা। বলা হয়, অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্যান্য পেট্রলিয়াম পণ্যও বিক্রি করতে পারবে ইরান। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণার পরেও পরিস্থিতি বদলের কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, বিক্রি করার মতো উদ্বৃত্ত তেল তাদের কাছে নেই বলে পালটা জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার পরেই ইরানের তেল কেনার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল বিভিন্ন দেশ। ভারতের তেল সংস্থাগুলিও উত্সাহ দেখিয়েছিল। কিন্তু তেহরানের বার্তা, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি তেল তাদের কাছে নেই। সমুদ্রেও ইরানের তেলবাহী কোনো জাহাজ নেই। আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, তাঁরা ছাড় দেওয়ার ফলে ১৪ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে চলে আসবে। তার ফলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই মিটবে। যদিও এই মার্কিন ঘোষণাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছে ইরান। ওই দেশের তেল মন্ত্রকের মুখপাত্র সামান ঘোদ্দুসির দাবি, জ্বালানির ক্রেতা দেশগুলিকে আশা দেওয়ার জন্যই আমেরিকার এই পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানের তেল রয়েছে। এশিয়ার দেশগুলি তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোধনাগারগুলি উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।