


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর ও কলকাতা: তিন বছরের সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন প্রেমিকা ঈশিতা মল্লিক। ২০২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরই উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া ছেড়ে সপরিবারে চলে এসেছিলেন নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। তারপর থেকে কোনওভাবেই ঈশিতাকে বাগে আনতে পারছিল না ‘প্রেমিক’ দেশরাজ সিং। সেই কারণে ‘ভয়ঙ্কর পরিণতি’র হুমকি দিতেও সে শুরু করে। তাতে অবশ্য কাজ হয়নি। তাই শেষপর্যন্ত প্রেমিকাকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল বছর তেইশের ওই যুবক। সোমবার দুপুরে কৃষ্ণনগর শহরের মানিকপাড়ায় ঈশিতার বাড়িতে ঢোকার সময় তার হাতে ছিল নাইন এমএম পিস্তল। দোতলার বেডরুমে ঢুকে প্রেমিকার মাথা লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি চালায় দেশরাজ। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত ছাত্রীর মাথার ডানদিকে দু’টি গুলির আঘাত রয়েছে। অপর একটি বুলেট বিঁধে ছিল মাথায়। আক্রোশ মেটাতেই কার্যত পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছিল ঈশিতাকে। ঘটনার পর পালানোর সময় দেশরাজের ছবি তুলেছিলেন রতন ঘোষ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। স্মার্টফোনে তোলা সেই ছবি থেকেই খুনিকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, রতনবাবু রাস্তায় নিজের মেয়ের ছবি তুলছিলেন। সেই সময় ফ্রেমে চলে আসে ওই যুবক। তার পরনে ছিল কালো হাফ স্লিভ জামা ও কালো প্যান্ট। পিঠে নীল রঙের ব্যাগ।
ছাত্রী খুনের পর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এখনও খোঁজ মেলেনি দেশরাজের। খুনের পর সে হাজির হয়েছিল কাঁচরাপাড়ার ধরমপুর কলোনি এলাকার ভাড়া বাড়িতে। সেখানকার কয়েকজন পরিচিতে কাছে আশ্রয় চাইলেও, কেউ পাত্তা দেয়নি তাকে। তদন্তকারীরা বলছেন, খুনের প্ল্যান বাস্তবায়িত করতে যাওয়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনটি সুইচড অফ করে বাড়িতে রেখে গিয়েছিল দেশরাজ। খুনের পর কাঁচরাপাড়ায় ফিরে সেটি হস্তগত করে। সেই মোবাইল ট্র্যাক করে খুনির হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। জানা গিয়েছে, পারিবারিকভাবে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা দেশরাজরা। খুনের পর সে যোগীরাজ্যেই গা-ঢাকা দিয়েছে, এমন সম্ভাবনা রয়েছে। তাই গোরক্ষপুর ও পার্শ্ববর্তী দেওরিয়াতে খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে রাজস্থানের জয়সলমিরে বিএসএফে কর্মরত দেশরাজের বাবাকে। উত্তরপ্রদেশের বাড়িতে থাকা মা ও বোনের কাছেও গিয়েছে পুলিসের ফোন। তদন্তকারীরা বলছেন, সপ্তাহখানেক আগে দেশরাজের মা ও বোন উত্তরপ্রদেশ ফিরে গিয়েছিলেন। ঠিক ছিল, ২৪ আগস্ট দেশরাজও সেখানে যাবে। বাবা ট্রেনের টিকিটও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রা বাতিল করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্ল্যান বানায় সে। জানা যাচ্ছে, এক সহপাঠীকে মারধরের জেরে কাঁচরাপাড়ার স্কুল থেকে দেশরাজকে তাড়ানো হয়েছিল। তারপর পড়াশোনামুখো হয়নি সে। এই পর্বেই স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে তার সংস্রব বাড়ে। সেই দুষ্কৃতীদের ভরসাতেই ঈশিতাকে হুমকি দিচ্ছিল সে। ছাত্রীর মোবাইল ফোন ঘেঁটে এব্যাপারে তথ্য পেয়েছে পুলিস। সূত্রের খবর, যে নাইন এমএম পিস্তলের গুলিতে ঈশিতাকে খুন করেছে দেশরাজ, সেটিএক দুষ্কৃতীর কাছ থেকে জোগাড় করা হয়েছিল। সেই দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। তবে সেও গা-ঢাকা দিয়েছে।