


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নিরবচ্ছিন্ন ও রোগীবান্ধব রক্ত পরিষেবার স্বার্থে’ সপ্তাহখানেক হল যুগ্ম স্বাস্থ্য অধিকর্তা (রক্ত নিরাপত্তা এবং এসবিটিসি) নির্দেশনামা জারি করেছেন। তাঁর দাবি ছিল, রক্ত বা উপাদান মজুত থাকলে ও বৈধ রিক্যুইজিশন থাকলে রাজ্যের যে কোনো সরকারি ব্লাড ব্যাংককে (বর্তমানে ব্লাড সেন্টার) রক্ত দিতেই হবে। না থাকলে, নিকটবর্তী সরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে জোগাড় করে বাড়ির লোকের হাতে তুলে দিতে হবে। রোগী বা সাধারণ মানুষকে যেন ছোটাছুটি করতে না হয়। ব্লাড ব্যাংকের কর্মীরা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সহৃদয় আচরণ না করলে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি! কিন্তু এই সব নির্দেশ যে স্রেফ নাম কা ওয়াস্তে, তা স্পষ্ট করল রবিবার রাতের ঘটনা। ক্যানসার আক্রান্ত বাবার জন্য রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হলেন বেলঘড়িয়া রেলগেটের বাসিন্দা প্রভাকর প্রসাদ।
প্রভাকর বললেন, ‘বাবা পরমানন্দ প্রসাদ প্যানক্রিয়াস ক্যানসারের রোগী। মুকুন্দপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভরতি। সোমবার অপারেশন ছিল। রবিবার রাতে হাসপাতাল বলল, ও পজিটিভ গ্রুপের দুই ইউনিট (আরবিসি) রক্ত আনতে হবে। সেইমতো রবিবার রাত ১১টা নাগাদ মানিকতলার সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে রিক্যুইজিশন স্লিপ নিয়ে পৌঁছে যাই। কাউন্টারের কর্মী বলেন, এ তো রিজার্ভে রাখার রক্ত। দেব না। আমি পীড়াপীড়ি করলেও একই কথা বলেন। অনেক চেষ্টা চরিত্র করার পর গভীর রাতে এক মহিলা চিকিৎসক কাউন্টারের কর্মীকে রক্ত দিতে বলেন। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ওঁরা বাবার রক্তের নমুনা চান। কিন্তু রাত আড়াইটেয় বলেন, স্যাম্পল ম্যাচ করছে না! নিশ্চয়ই হাসপাতাল থেকে স্যাম্পল আনতে দেরি করেছেন। যান, হাসপাতাল থেকে ফের স্যাম্পল আনুন। ফের মানিকতলা থেকে মুকুন্দপুর যাই। স্যাম্পল আনি। জমা দিই। ভোর ৪টে ৫১ মিনিটে ওঁরা বলেন, অপেক্ষা করুন। তারপর সকাল ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে জানান, রক্ত পাবেন না। স্যাম্পল ম্যাচ করছে না। মেডিকেল কলেজে যান। সকাল ৭টা ৪০ নাগাদ মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকে যাই। বলা হয়, ১১টায় আসুন। তখন যাই সাগর দত্ত মেডিকেলে। মানিকতলা বলছিল, বাবার রক্তের স্যাম্পল নাকি ম্যাচ করছে না। সাগর দত্ত কিছুক্ষণেই ম্যাচ করিয়ে দেয়। কিন্তু ওরা আবার বলে, রিক্যুইজিশন স্লিপে দু’জন ডাক্তারের সই দরকার। সেখানে সমস্যা আছে। আবার হাসপাতালে যান। আমার তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার দশা! শেষমেশ খড়দহের একটি প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংক থেকে সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ রক্ত পাই।’ প্রভাকর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। প্রয়োজনে রক্তের রিক্যুইজিশন সহ সব কাগজপত্র যাচাই করুক সরকার। কেন সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক ভোগাল, তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। যাঁর ইমার্জেন্সি রক্ত লাগবে, এভাবে ভুগতে হবে?’ রক্তদান আন্দোলনের দীর্ঘদিনের কর্মী এবং এনবিটিসি’র সদস্য বিশ্বরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘সরকার নির্দেশ জারি করে বলছে, ব্লাড ব্যাংকে মানুষকে হয়রান করা যাবে না। অথচ বাস্তব চিত্র ঠিক উলটো। এই দ্বিচারিতা কেন?’ প্রতিক্রিয়া জানতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি।