


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আন্ডার এনকোয়ারি লিস্টে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরে তিন লক্ষ অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন অনুমোদন করল প্রশাসন। ১৬ জুলাই থেকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। ব্লকস্তরে এনকোয়ারির পর প্রায় তিন লক্ষ আবেদন জেলায় এসেছে। জেলা প্রশাসন সেইসব আবেদন অ্যাপ্রুভ করেছে বলে বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা যোজনার অফিসার ইন-চার্জ জানিয়েছেন। এই জেলায় আগেই ৯লক্ষ ৪৯হাজার ৮৪জনের নাম অন্নপূর্ণা যোজনায় অনুমোদন হয়েছিল। গত ১জুলাই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে। কিন্তু, অনেকের আবেদন অনুমোদন না হওয়ায় পেমেন্ট হয়নি। এনিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিস্তর ঝামেলাও হয়। হলদিয়া বিডিও অফিসে বিক্ষোভ হয়। সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহিলারা জাতীয় সড়ক অবরোধও করেছেন। নন্দীগ্রাম, এগরা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিডিও অফিসেও ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়েছিল। এই অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে এনকোয়ারি শুরু হয়। সেইসব আবেদনের মধ্যে প্রায় তিন লক্ষ জেলা প্রশাসন অনুমোদন করেছে। এরফলে আরও তিন লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকতে শুরু করেছে।
পূর্ব মেদিনীপুরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তা ছিলেন ১৪লক্ষ ২৮হাজার। তাঁদের মধ্যে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অনেকে ওই সুবিধা পেতেন। অন্নপূর্ণা যোজনায় এপর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২লক্ষ মহিলা সুবিধা পেতে চলেছেন। গত ১২জুলাই মেচেদায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ৩০আগস্ট পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন চলছে। এই স্কিমের জন্য যোগ্য বিবেচিত সকলেই পাবেন। অযোগ্যরা বেরিয়ে যাবেন। ইতিমধ্যে প্রত্যেক বিধানসভায় গড়ে ৩৫-৪০হাজার মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন। এই স্কিমের জন্য যাঁরা যোগ্য তাঁরা সুবিধা পাবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে প্রত্যেক ব্লক ও পুরসভায় ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। যাঁরা ফর্ম পূরণে ভুল করেছেন, তাঁরা এডিট করার সুযোগও পেয়েছেন। সবমিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জেলায় প্রায় সাড়ে ১২লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের মধ্যে এক লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়া, সরকারি কর্মচারী পরিবারের সদস্য কিংবা আশা, আইসিডিএস কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন না।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেন, পূর্বতন সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা তালিকা তৈরি করতে ন’মাস সময় নিয়েছিল। আমাদের সরকার অনেক দ্রুততার সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার লিস্ট তৈরি করছে। অনুমোদন করার আগে যথাযথভাবে ভেরিফাই করতে হয়। সেই কাজের জন্য কিছুটা সময় লাগে। প্রশাসন বেশ তৎপরতার সঙ্গে এই কাজ করছে। আরও প্রায় তিন লক্ষ উপভোক্তার নাম অনুমোদন হওয়াটা খুশির খবর।