


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ থেকে মধ্যপ্রদেশে জোর করে নাবালকদের কাজে পাঠানো হচ্ছে। সালারের তিন কিশোরকে এক ব্যক্তি ভোপালে কাজে নিয়ে গিয়েছিল। শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ওখানকার রেল পুলিসের হাতে তারা ধরা পড়ে যায়। তিন কিশোরকে উদ্ধার করে সেখানকার পুরসভার একটি হোমে পাঠানো হয়। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের কাছে খবর আসে, সালারের সমস্তিপুরের তিন কিশোর ধরা পড়েছে। তাদের ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিস। জেলা পুলিস সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, ‘ভোপালে উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরের বাড়ি সালারে। আমরা ওদের ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।’ ইতিমধ্যে পুলিসের তরফ থেকে মুর্শিদাবাদের চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ভোপালের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে শিশুদের ফেরানোর ব্যাপারে আবেদন জানিয়েছে। এমনকী, শিশুদের সোশ্যাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ভোপাল থেকে শিশুদের মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসা হবে। এতদিন মুর্শিদাবাদ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন রাজ্যে কাজে পাঠানো হতো। এবার কিশোরদের সেই কাজে পাঠানো হচ্ছে বলেই উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় মাস আগে সালারের সর্মস্তিপুরের ওই তিন কিশোর এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ভোপালে যায়। সেখানে কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠানোর চেষ্টা ছিল তাদের। আর্থিক অনটনের জেরেই কিশোররা এই জেলা ছেড়ে ভিনরাজ্যে কাজ জোগাড় করেছিল। মোটা মাইনের লোক দেখিয়ে একশ্রেণির দালালরা তাদেরকে কাজে নিয়ে যাচ্ছে। ভোপালের রেল পুলিস ওই কিশোরদের কাজ করতে যাওয়ার সময় ট্রেন থেকে নামতেই তাদেরকে আটক করে। তারপরে স্থানীয় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পেশ করা হয়। তারাই এই কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের হোমে পাঠিয়েছে। খবর পেয়ে সালার থেকে ওই শিশুদের মা-বাবা ভোপালের হোমে যান। সেখানকার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু, পরিবারের হাতে তাঁরা ওই কিশোরদের ছাড়েনি। ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের হাতে ওই কিশোরদের ফেরত দেওয়া হবে বলেই জানা গিয়েছে।
জেলার চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের এক আধিকারিক বলেন, আমরা ওই তিন কিশোরের সোশ্যাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট ভোপালে পাঠিয়ে দিয়েছি। সাধারণত এইসব ক্ষেত্রে কিশোরদেরকে বাবা-মায়ের হাতে ছাড়া হয় না। তাই ভোপাল থেকে হয়তো একটি টিম এসে ওই শিশুদেরকে আমাদের হাতে হস্তান্তর করবে। আমরা যোগাযোগ রাখছি। এদিন বহরমপুর থেকেও এক শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। বহরমপুর থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় কাঠের সরঞ্জাম তৈরির দোকানে কাজ করত ওই কিশোর। সে মনীন্দ্রনগর হাইস্কুলের ছাত্র। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে পড়াশোনা ছেড়ে সে দোকানে কাজ শুরু করে। পরিবারের আর্থিক অনটনের জেরেই সে কাজ করতে বাধ্য হয়। জেলার চাইল্ড হেল্প লাইন এবং চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের সদস্যরা এদিন তাকে উদ্ধার করে। চাইল্ড হেল্প লাইনের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর দেবিকা ঘোষাল বলেন, ওই বাচ্চাটি একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করত। খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করেছি। তার কাউন্সেলিং চলছে। ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছেলে। ওকে যাতে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফেরানো যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।