


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাত: নিজের স্ত্রী ও বউদির শিরা তো কাটা হয়েই গিয়েছে। ঘরে ভেসে যাচ্ছে রক্ত! তাঁরা মারা গিয়েছেন। পাশের ঘরে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মেয়ে। চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ তাঁরা। অতএব গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তিনজন আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঘরে পড়ে থাকা দেহগুলির কী হবে? সকাল থেকেই তো গন্ধ বেরবে! স্বভাবতই স্থানীয় লোকজন জড়ো হবে। তাই ফুল স্পিডে এসি চালিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে গন্ধ না-ছড়ায়। ট্যাংরায় দে পরিবারে ছোট ছেলে প্রসূন জেরায় এমনটাই জানিয়েছেন।
ট্যাংরার শীল লেনের ব্যবসায়ী প্রসূন এখন জেলবন্দি। চলতি সপ্তাহেই দোষ কবুল করে তাঁর গোপন জবানবন্দি দেওয়ার কথা। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর দাদা প্রণয় ও তাঁর ছেলে। সূত্রের খবর, প্রণয়কে ছাড়তে এখনও দু’সপ্তাহের বেশি দেরি। কেন দে পরিবার এই সিদ্ধান্ত নিল, তদন্তে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ঋণের বোঝা বাদ দিয়ে অন্যকোনও কারণ নেই, এমনটাই দাবি পুলিসের।
তদন্তকারীরা বারবার প্রসূনের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছেন, আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কেন পায়েস খাওয়া হল? দে পরিবারের ছোট ছেলে জানিয়েছেন, আসলে সিলিং ফ্যান তাঁদের ওজন নিতে পারবে না বলেই পায়েসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেটা ব্যর্থ হওয়ার পরই শিরা কাটার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রসূনের কাছে তদন্তকারীদের প্রশ্ন ছিল, তিনি তো কোনোদিন ছুরি-কাঁচি ধরেননি বা কাউকে মারেননিও। তাই স্ত্রী রোমি ও সুদেষ্ণার হাতের শিরা কাটতে গিয়ে ঘাবড়ে যাননি তিনি। অফিসারদের প্রসূন জানিয়েছেন, ছুরি ধরার পর একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু মনকে বুঝিয়েছিলাম আর কিছু করার নেই। কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ছুরি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর মানসিক অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে তিনি কার্যত দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছিলেন। কী করছেন, তা বোধহয় নিজেও জানতেন না তিনি। একটা ঘোরের মধ্যেই তিনি ছিলেন। তার থেকেই দু’জনের শিরা কাটতে পেরেছিলেন প্রসূন।
প্রসূন তদন্তকারীদের আরও জানিয়েছেন, কন্যা, স্ত্রী ও বউদিকে খুনের পর দেহ কীভাবে রাখা হবে, তাই নিয়ে দাদার সঙ্গে উপরে একপ্রস্থ আলোচনা হয়। তিনি দাদাকে বোঝান যে ইতিমধ্যেই তিনজন মারা গিয়েছেন। কয়েকঘণ্টা পর থেকেই গন্ধ বেরবে। বাড়িতে যে পরিমাণ পারফিউম রয়েছে তাই দিয়ে সেই গন্ধ ঢাকা যাবে না। গন্ধ আটকাতে বাইরে থেকেও আর কোনও রাসায়নিক কিনে ছড়ানো সম্ভব নয়। অতএব, একমাত্র উপায় হল—সমস্ত ঘরে ফুল স্পিডে এসি চালিয়ে দেওয়া, যাতে গন্ধ কোনোভাবেই বাইরে না ছড়ায়। সেই পরিকল্পনা মতোই সংশ্লিষ্ট তিনটি ঘরসহ বাড়ির সবগুলি এসি অন করে দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান তাঁরা আত্মহত্যা করতে।