


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ২০২১ সাল। একদা ‘লাল গড়’ রানিগঞ্জ ফের জয়ের স্বপ্নে বিভোর সিপিএম। অন্যদিকে অবাঙালি ভোটকে ভরসা করে বিজেপিও জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে। তবে কি তৃণমূল রানিগঞ্জে তিন নম্বর স্থানে থাকবে! দলনেত্রী আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে দিলেন রানিগঞ্জ আসনে। ব্যস! সব রাজনৈতিক হিসাব উলটে রানিগঞ্জে জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। হিসেব উলটে দেওয়া সেই তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ই এবার বিধানসভা ভোটে আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী। লক্ষ্য, রাজ্য সরকারকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলা বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকে হারানো। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা আসনটি হাতের তালুর মতো চেনা বর্ষীয়ান তাপসবাবুর। লড়াই কঠিন হলেও ফের কিস্তিমাত দিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ময়দানে তিনি। যদিও বিজেপি জেলা সহ সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তীর দাবি, এবার বিজেপিকে আটকাতে পারবেন না তাপসবাবু।
২০১৮ সালে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার বার্নসের ওয়াগন কারখানা বন্ধ করে দেয়। বুধবার সেখানে চায়ের দোকানে বসেছিলেন এই কারখানার প্রাক্তন কর্মী স্বপন বসু। এখন তিনি গ্রিলের দোকানে কাজ করেন। তিনি বলেন, বিজেপি বিধায়ক এখানে কয়েকটি পথবাতি দেওয়া ছাড়া কিছুই করেননি। কেন্দ্রকে বলে তো কারখানা খোলাতে পারত। ওয়াগন কলোনিতে প্রচার করবেন তাপসবাবু। তৃণমূল কর্মীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও জমায়েত হয়েছে। তেমনই একজন হিরালাল বিশ্বকর্মা বলেন, তাপসবাবু কাজের মানুষ। ওঁকে সব মানুষই পছন্দ করে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গাড়ি থেকে নামতেই ঘিরে ধরল তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষ। উৎসাহিত কর্মীরা ফুল ছোড়া শুরু করলেন। হাতজোড় করে তাপসবাবু মহিলা কর্মীদের বলেন, আমি বিশিষ্ট নই। ‘আমি তোমাদেরই লোক’ এই নামই যেন থাকে। কর্মীদের নিয়ে ওয়াগন কলোনির শিবমন্দিরে প্রণাম করলেন। তারপর গেলেন হনুমান মন্দিরে। তাঁর আমলেই সেখানে শেড হয়েছে দাবি করলেন স্থানীয়রা। সামনে মাইক লাগানো টোটো গাড়ির পিছু পিছু যাবেন প্রার্থী। শুরু হল প্রচার। বন্ধ কারখানার কলোনির রাস্তাও তথৈবচ, ভাঙাচোরা। রাজ্য সরকার চাইলেও সেখানে কাজ করতে পারবে না। ভাঙা রাস্তাতেই হাঁটা শুরু করলেন তাপস। তিনি যে অপরাজেয় প্রমাণ করার ভার তাঁর কাঁধে। তাই বয়সকে তুড়ি মেরে শুরু করলেন দৌড়। তাঁর হাঁটার গতিতে হিমশিম মহিলা কর্মীরা। প্রার্থীর গতি হারিয়ে দিচ্ছিল টোটোর স্পিডকেও। দ্রুত গতিতে টোটো যাচ্ছে পিছনে তাপস। তার পিছনে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা দশ বছর বিধায়ক ছিলেন এই এলাকার। বাড়ি বাড়ি তাঁর পরিচিতি। তিনি আসছেন জেনেই বাড়ির দরজায় ওয়াগন কলোনির বাসিন্দা। বাড়ির বয়স্কদের নমস্কার করে পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে এতটাই আন্তরিক যে, নিজেরাই বেরিয়ে পড়ছেন প্রচারে। সুখিন্দর কৌরের পা ছুয়ে আশীর্বাদ দিতেই তিনি বলেন, তুমিই জিতবে। শিতলা মন্দিরে প্রণাম সেরে সারদা পল্লি ঘুরতেই বিষ্ণু যাদব হাজির খাটালের থাকা মানুষজনদের পরিচয় করাতে। সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন নিরঞ্জন মণ্ডল। ভোট প্রার্থনা করতেই তিনি বলেন, বাবু আপনাকে বলতে হবে ২০১১ সালে আপনার হয়ে পতাকা বেঁধেছি। বন্দনা যাদব বলেন, কয়েক জনের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হয়নি। তাপসবাবু বলেন, ফের আবেদন করুন। হয়ে যাবে। এবার তাপস হাজির হলেন সারদাপল্লি সাতাডাঙায়। অনেকেই প্রার্থীকে হাত ধরে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলেন। প্রচারের ব্যস্ততায় সেই অনুরোধ ফেরালেন। অন্য দলের কর্মীদের কাছেও ব্যক্তি তাপসের গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ্যে এল। তারই মাঝে স্বাগতা সেনগুপ্ত অনুরোধ করেন বিধায়ক হয়ে জলের সংকট মেটাতে। আশ্বাস দিয়ে এগিয়ে চললেন তাপস।