


ওয়াশিংটন ও মস্কো: বইছে হিমেল হাওয়া। তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আলাস্কায় দুপুরের আবহাওয়া বেশ মনোরম। আর এই ‘মনোরম আবহাওয়া’তেই শুক্রবার হল বহুচর্চিত ডোনাল্ড ট্রাম্প-ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠক। ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপে জল ঢালাই ছিল যে বৈঠকের লক্ষ্য। কিন্তু আদৌ কি মিলল সমাধানসূত্র? চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে আলাস্কার বৈঠক।
রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনার পর ট্রাম্প বললেন, ‘বড় ভালো কথা হল। আলোচনা ফলপ্রসূ। দশে দশ।’ আবার একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে রাখলেন, যুদ্ধ থামানো নিয়ে পুতিনের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে এখনও আসা যায়নি। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও ইউরোপের দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন। পরে জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের বার্তা, ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ‘চুক্তি’ পাকা করে ফেলুন। সেই সূত্রেই শনিবার জেলেনস্কির দাবি, ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিনি আমেরিকা যাচ্ছেন। সোমবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর কথা হবে। আর আলাস্কার বৈঠকের পর পুতিন পরবর্তী আলোচনার জন্য ট্রাম্পকে মস্কোয় আমন্ত্রণ জানালেন।
আলাস্কার এই বৈঠকের আগে পর্যন্ত রাশিয়াকে চড়া সুরে হুমকি দিয়ে গিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঙ্কার ছিল, সদর্থক আলোচনা না হলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন তিনি। ‘চরম ফল’ ভুগতে হবে রাশিয়াকে। যদিও ‘সিংহ গর্জন’ করে আসা সেই ট্রাম্পের গলাতেই বৈঠকে একেবারে নরম সুর! আর বহু বছর পর আমেরিকার মাটিতে পা রাখা পুতিন পেলেন নায়কোচিত অভ্যর্থনা।
চারটি মার্কিন ফাইটার জেটের প্রহরায় আলাস্কার অ্যাঙ্কারেজে নামেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল রেড কার্পেট অভ্যর্থনার ব্যবস্থা। পুতিন ট্রাম্পের দিকে এগিয়ে যেতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনবার তালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানালেন। এরপরই দীর্ঘ করমর্দন। মুখে ‘বন্ধুত্বের হাসি’। টারম্যাকেই বানানো হয়েছিল একটি অস্থায়ী পোডিয়াম। রেড কার্পেট দিয়ে সেই পোডিয়াম পর্যন্ত পাশাপাশি হেঁটে গেলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। শক্তি প্রদর্শন হিসেবে মাথার উপর তখন উড়ছে আমেরিকার এফ-২২ ফাইটার জেট এবং একটি বি-২ বোমারু বিমান।
রুশ প্রেসিডেন্টকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, আপনি কী নিরীহ মানুষের হত্যা বন্ধ করবেন? জবাব এড়াতে কানের কাছে হাত রেখে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালেন পুতিন। ভাব এমন, যেন কিছুই শুনতে পাননি! এর পরেই নাটকীয় মোড়। ট্রাম্প অঙ্গভঙ্গিতে পুতিনকে বললেন, চলুন, এগনো যাক। সংবাদ মাধ্যমকে অবাক করে দুই নেতা গিয়ে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি লিমুজিন গাড়ির ‘দ্য বিস্ট’-এর পিছনের সিটে। এনবিসি নিউজের রিপোর্ট বলছে, টারম্যাকেই মস্কোর নম্বর প্লেট লাগানো অন্য একটি গাড়িও উপস্থিত ছিল। সম্ভবত সেই গাড়িতেই প্রাথমিকভাবে ওঠার কথা ছিল পুতিনের। বদলে রুশ প্রেসিডেন্টকে নিজের গাড়িতেই তুলে নেন ট্রাম্প। কালো কাচের ভিতরে দুই নেতাকে একান্তে কথা বলতে দেখা গেল। দেখা গেল, পুতিনের মুখে চওড়া হাসি! দশ মিনিটের এই একান্ত আলাপচারিতা শেষে তাঁরা বৈঠকের মূল কেন্দ্রে পৌঁছলেন। কিন্তু এই ১০ মিনিটের একান্ত সফরে ট্রাম্পের কাছে কী শুনে পুতিনের মুখে হাসি? চর্চা বিশ্বজুড়ে।