


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সামনে কি পাহাড় ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা আছে? বিশেষ করে সান্দাকফু বা ফালুট? তাহলে আপনাকে মানতে হবে কোঠোর স্বাস্থ্য বিধি। কারণ এবার সান্দাকফু-ফালুটের দুর্গম পাহাড়ি পথে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। সাম্প্রতি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে উচ্চতাজনিত কারণে বহু মানুষকে স্বস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে শ্বসকষ্ট থেকে শুর করে নানান জটিলতার মধ্যে পড়তে হয় পর্যটকদের। এমনকী এই সব জটিলতার কারণে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই এইসব কিছুর কথা মাথায় রেখে ট্রেকার থেকে শুরু করে ল্যান্ড রোভার চড়ে সান্দাকফু-ফালুট ভ্রমণে যাওয়া সমস্ত পর্যটকের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সুরক্ষাবিধি চালুর নির্দেশ দিয়েছে জিটিএ-র পর্যটন বিভাগ।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মানেভঞ্জন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরেই পর্যটকদের যাত্রা শুরু করতে হবে। তবেই পাহাড় ভ্রমণের অনুমতি মিলবে, এমনটাই সাফ জানিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্রেকিং এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, ল্যান্ড রোভার চালক এবং গাইডদের।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পর্যটকদের যাত্রার আগে বাধ্যতামূলক মেডিকেল স্ক্রিনিং করাতে হবে। স্বস্থ্য পরীক্ষার ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, গাইড এবং গাড়িচালকদের দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ের বেশি উচ্চতায় ওঠার ফলে অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস বা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের আগাম সচেতন করতে হবে। পর্যাপ্ত জল পান, শরীরকে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া এবং শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব সম্পর্কেও তাঁদের অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জিটিএ-র নির্দেশিকায় আরো বলা হয়েছে, কোনো পর্যটকের তীব্র মাথাব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা, শ্বসকষ্টর মতো উপসর্গ দেখা দিলে আর উচ্চতার দিকে এগোনো চলবে না। সেক্ষেত্রে বিলম্বে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে নিচু অঞ্চলে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, যাঁরা ট্রেকিং করেন তাদেরও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম সঙ্গে রাখার এবং নিকটবর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার তথ্য হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।