


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের আবহে তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠল মিনাখাঁয়। বৃহস্পতিবার সকালে মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ঝুজুরগাছা এলাকায় মসিউর কাজির অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। গোটা শরীরে ঝলসানোর চিহ্ন স্পষ্ট। বিস্ফোরণে মৃত্যু হলে মৃতের দেহে যে ধরনের ক্ষত থাকে, তেমনই আঘাতের চিহ্ন মিলেছে মসিউরের শরীরে। হাড়োয়া থানা ও জেলা পুলিশ সূত্রে খবর এখবর জানা গিয়েছে। তবে বোমার আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এদিকে, ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ার দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে একটি ঘরে বোমা বিস্ফোরণকে ঘিরে রহস্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘরে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। বিস্ফোরণের পর দেহ অন্যত্র ফেলে দিয়ে আসা হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, ভাঙড়ে বিস্ফোরণের খবর শুনলেও সেখানে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, কিংবা দেহ লোপাট করা হয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই। এদিকে, নির্বাচন কমিশন এবিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার বামুনিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে বোমা বাঁধা হচ্ছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, খালপাড়ের ওই পাকা বাড়ির পাঁচিল ভেঙে গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতে তাঁরা বেশ কয়েকটি বোমা ফাটার শব্দ শুনতে পেয়েছেন। সেখানে বোমা বাঁধার জন্য দেগঙ্গা থেকে লোক আনা হয়েছিল। ওই বিস্ফোরণে অনেকেই আহত হন। তাঁদের গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। মাঝরাস্তায় একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। যদিও পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে কোনো দেহাংশ বা মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। ওই বিস্ফোরণেই যে মসিউর কাজির মৃত্যু হয়েছে, তারও কোনো প্রমাণ মেলেনি। ওই বিস্ফোরণ কীভাবে হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেকারণে আজ, শুক্রবার ফরেন্সিক টিমকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে রক্ত পড়ে থাকার কথা বললেও পুলিশের বক্তব্য, সেটি রক্ত নাকি রং, তা নমুনা পরীক্ষার পর বোঝা যাবে।
বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকালে মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্র এলাকা থেকে শাসকদলের বুথ সভাপতি মসিউর গাজি ঝলসানো দেহ উদ্ধার হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাঁর হাত উড়ে গিয়েছে। তিনি কীভাবে ঝলসে গেলেন, তা পরিষ্কার নয় পুলিশের কাছে। আর ঝুজুরগাছায় তিনি এলেনই বা কী করে, তা নিয়েও খোঁজখবর চলছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখছেন তদন্তকারীরা। মিনাখাঁ থেকে ভাঙড়ে তিনি এসেছিলেন কি না, তাও স্পষ্ট হয়নি। ভাঙড়ের যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখান থেকে মিনাখাঁ যে এলাকায় মসিউরের দেহ মিলেছে, তার দূরত্ব প্রায় ১২ কিমি। এই দূরত্বই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। কারণ ঘটনাস্থলে মেলা রক্ত তাঁর কি না, তা জানতে পরিবারের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে। সেই রিপোর্ট বোঝা যাবে, মসিউর বিস্ফোরণস্থলে ছিলেন কি না।
মসিউরের পরিবারের দাবি, বুধবার রাত ৯টা নাগাদ তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। সেই ফোন পাওয়ার পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাত গভীর হলেও বাড়ি ফেরেননি। ভোরেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত শংকরপুর এলাকার ঝুজুরগাছা এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, দেহটি ক্ষতবিক্ষত ছিল। চক্রান্ত করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।