


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ভোটের অঙ্কে তৃণমূলের দাপট। বোর্ডও ছিল তাদেরই। ২১ আসনের মধ্যে ১২টি তৃণমূলের, আটটি বিজেপির, একটি কংগ্রেসের। কিন্তু সেই অঙ্ক আর কাজে এল না। সভাপতি ও সহ-সভাপতির পদত্যাগের পর নতুন করে বোর্ড গঠনের সময় বিরোধীরা হাজিরই হলেন না। আর সেই সুযোগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে নিল বিজেপি।
মঙ্গলবার কৃষ্ণগঞ্জ বিডিও অফিসে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন ছিল। তৃণমূল ও কংগ্রেসের কোনও সদস্যই উপস্থিত হননি। ফলে কোনও ভোটাভুটি ছাড়াই বিজেপির মঞ্জু সরকার সভাপতি এবং গৌতম ঘোষ সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে সীমান্তের কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা থেকে বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত বিশ্বাস ব্যাপক মার্জিনে জয়ী হন। ৬৩ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপি আসনটি জয়লাভ করে। পালাবদলের পর থেকেই কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের একের পর পঞ্চায়েত বিজেপি নিজেদের দখলে নিচ্ছে। বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘প্রথমে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং পরে সহ-সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন। তাই নতুন করে বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন ছিল। এদিন সর্বসম্মতি ক্রমে বিজেপির সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধীরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।’
তিন বছর আগে কৃষ্ণগঞ্জে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উলটো। ২১ আসনের মধ্যে ১২টি আসনে জয় পেয়ে বোর্ড গড়েছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল আটটি এবং কংগ্রেস একটি আসন। সভাপতি হন তৃণমূলের কাকলি দাস, সহ-সভাপতি অনুপ দাস। তার পর সময়ের সঙ্গে বদলাতে থাকে রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজ্যে পালাবদলের পর কৃষ্ণগঞ্জেও তার আঁচ পড়ে। পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের সদস্যদের উপস্থিতি কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সভাপতি কাকলি দাস এবং সহ-সভাপতি অনুপ দাস পদত্যাগ করেন। নতুন করে নির্বাচন ঘোষণার পর এদিন ফাঁকা মাঠেই গোল করে বিজেপি। তৃণমূলের ১২ এবং কংগ্রেসের এক সদস্যের কেউই উপস্থিত না থাকায় বিজেপির মঞ্জু সরকার ও গৌতম ঘোষের সামনে আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না।
এদিন ফল ঘোষণার পরেই উৎসবে মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বিডিও অফিস চত্বরে শুরু হয় ঝুমুর নাচ। বাজতে থাকে তাসা। একে অপরকে গেরুয়া আবিরে রাঙিয়ে দেন কর্মীরা। নবনির্বাচিত সভাপতি মঞ্জু সরকারের কথাতেও উন্নয়নের বার্তা। তিনি বলেন, ‘দলের সকলকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই। এলাকার মানুষের উন্নয়নই আমার প্রথম লক্ষ্য। আমি নয়, আমরা একসঙ্গে মিলেমিশে সমস্ত কাজ করব।’
শুধু কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতি নয়, কৃষ্ণনগর-১, কৃষ্ণনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপি দখল করেছে। যদিও প্রতি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে তৃণমূলের সদস্যরা ভোটাভুটিতে উপস্থিত থাকছেন না। যার ফলে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছে।