


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বড়জোড়ায় বিজেপিকে টেক্কা দিতে ‘সেবাশ্রয়’কে হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। গত এক সপ্তাহে রাজ্যের শাসক দল বড়জোড়ার দু’টি অঞ্চলে সেবাশ্রয় হেল্থ ক্যাম্পে পাঁচ হাজার মানুষকে কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়েছে। আগামী দিনে বড়জোড়া বিধানসভার অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও সেবাশ্রয়ের আয়োজন করা হবে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে। তৃণমূল নেতা সুখেন বিদের নেতৃত্বে শাসক দলের কর্মীরা দু’টি সেবাশ্রয়ের আয়োজন করেন।
উল্লেখ্য, বড়জোড়ায় গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি অনেকটাই এগিয়েছিল। ফলে বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরকে পিছনে ফেলতে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে দলের তরফে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব ঝাঁপিয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলে সেবাশ্রয় ক্যাম্পের আয়োজন তৃণমূলকে ভোটে ডিভিডেন্ড দেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। ওইসব শিবিরে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অর্চিতা বিদ, বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কাজল পোড়েল, প্রাক্তন বিধায়ক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বড়জোড়ার বিজেপি নেতা সুজিত অগস্তি বলেন, ভোটের জন্য তৃণমূল সেবাশ্রয় করছে। ভোট মিটে গেলে শিবির বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা যে লাটে উঠেছে, তা তৃণমূলের সেবাশ্রয় আয়োজনের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে।
সুখেন বিদ বলেন, সারা বছর আমরাই মানুষের পাশে থাকি। নির্বাচন এলে বিজেপিকে ময়দানে দেখা যায়। করোনার সময় বিজেপি নেতারা বাড়ি থেকে বের হননি। তখন আমরা ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বড়জোড়ার গরিব মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। আমাদের দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবারে সেবাশ্রয় আয়োজন করছেন। তাঁর দেখানো পথে আমরাও বড়জোড়াবাসীর দুয়ারে দলের তরফে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছি।
তৃণমূল নেতারা জানিয়েছেন, বড়জোড়ার হাটআশুরিয়ায় তিনদিনের সেবাশ্রয়ে মোট ৩২১৬ জন চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েছেন। শনিবার শেষ হওয়া জামবেদিয়া এলাকার সেবাশ্রয়ে ১৫৩২ জন পরিষেবা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’শোর কিছু বেশি মানুষকে শল্য চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের নানারকম পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়েছে।
জামবেদিয়ার সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা করানো বুলু দাস বলেন, বেশকিছু দিন ধরে আমি বুকে ব্যথা অনুভব করছিলাম। বাড়ি থেকে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব বেশি হওয়ায় যাওয়া হয়ে ওঠেনি। বাড়ির কাছে সেবাশ্রয় হচ্ছে শুনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলাম। ইসিজি করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন। সেইমতো একটি বেসরকারি হাসপাতালে তৃণমূলের তরফে বিনামূল্যে সবধরনের পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বলেন, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েই আমরা দায় সারছি না। সম্পূর্ণ রোগ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রোগীদের পাশে থাকব।