


ওয়াশিংটন, ৭ সেপ্টেম্বর: ‘মেক আমেরিকা গ্রেট আগেইন’, ভোটপ্রচারে এই ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগান। রাষ্ট্রবাদ, অর্থাৎ নিজের দেশ আগে। সেই কারণেই ক্ষমতাতে এসে নিজের দেশের অর্থভাণ্ডার ভরাতে বিশ্বের সমস্ত দেশের পণ্যের উপর শুল্ক চাপাতে শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকী ‘বন্ধু’ দেশগুলির উপরও চড়া হারে শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের শুল্ক নীতি থেকে বাদ যায়নি চীন ও ভারত। রাশিয়ার থেকে জ্বালানি তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক নয়াদিল্লির উপর চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। যার ফলে বেজায় ক্ষুব্ধ হয় ভারত সরকার। আর সেই ক্ষোভের কারণেই উল্টো দিকে সক্ষতা বাড়াতে শুরু করে ভারত। অর্থাৎ চীনের সঙ্গে হাত মেলায় নয়াদিল্লি। ট্রাম্পের জন্যই একছাতার তলায় চলে আসে ভারত-চীন-রাশিয়া। এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
চীনের তিয়ানজিনে পুতিন-মোদি ও জিনপিংয়ের জটলা, অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয় আমেরিকা সহ পাশ্চত্যের একাধিক দেশের। সেই বিপদসঙ্কেত বুঝে ফের আসরে নেমেছেন ট্রাম্প। শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পাল্টা মোদিও অভিবাদন জানিয়েছেন। এরপরেই জানা গিয়েছে, আগামী অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন ট্রাম্প। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপিইসি)-এর সম্মেলন। যাতে অংশগ্রহণ করবেন বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীরা। সূত্রের খবর, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এই সম্মেলনে নিজের শীর্ষ পরামর্শদাতাদের নিয়ে যোগ দেবেন। সেই কারণে ‘গোপনে’ শুরু হয়ে গিয়েছে তোড়জোড়। এও জানা গিয়েছে, এই সম্মেলনে যোগ দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং। আর সেখানেই আলাদাভাবে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন ট্রাম্প। সেই বিষয়ে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। মূলত শুল্ক নীতি নিয়েই হবে বৈঠক। তবে বিশেষজ্ঞদের মত, মোদি-পুতিন-জিনপিং জোট কপালে ভাঁজ ফেলেছে ইউরোপ ও আমেরিকার নেতাদের। তাই ট্রাম্প বিষয়টি গোড়াতেই আটকাতে চাইছেন।
যদিও হোয়াইট হাউসের এক সূত্র বলছে, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্টের একটি সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হবে। এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’ যদি ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় যান, তাহলে একাধিক দেশেও সফর করবেন তিনি। এমনটা জানা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই ট্রাম্পকে সস্ত্রীক চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন জিনপিং। যদিও তাতে এখনও পর্যন্ত সাড়া দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সফরে গেলে বেজিং যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ট্রাম্পের।