


ওয়াশিংটন: ‘আজ রাতেই গোটা একটা সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে। সবাই মরবে। আমি চাই না হোক। কিন্তু এটাই সম্ভবত হতে চলেছে। আজকের রাত বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠবে। কারণ বিগত ৪৭ বছরের দুর্নীতি, তোলাবাজি ও মৃত্যুর খেলা একেবারে শেষ হয়ে যাবে। ইরানবাসীর মঙ্গল করুক ঈশ্বর।’ ‘জেদি’ ইরানকে বাগে আনতে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় হুংকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আগেই মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। হরমুজ প্রণালী নিয়ে সমঝোতা না করলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই এবার পুরো সভ্যতাকে মুছে দেওয়ার হুমকি দিলেন। ইতিমধ্যেই একাধিক বি-৫২ বম্বার বিমান ইরানের দিকে রওনা দিয়েছে বলে খবর। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই জল্পনা ছড়ায়, ইরানে পরমাণু বোমা ব্যবহার করতে পারে আমেরিকা। তবে সেই সম্ভাবনা খারিজ করেছে হোয়াইট হাউস। মাথা নত করতে নারাজ তেহরানও। সাফ বার্তা, আলোচনার সমস্ত পথ বন্ধ। সভ্যতার প্রসঙ্গ তুলেই ট্রাম্পকে ইরানের পালটা জবাব, ‘এবার ইরানের প্রাচীনতম সভ্যতার কাছ থেকে বড়োসড়ো ধাক্কা খেতে চলেছেন আপনি ও আপনার বন্ধুরা। এমন হামলা করব, আজীবন মনে থাকবে।’ মঙ্গলবার ইরানি সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ‘যদি মার্কিন সন্ত্রাসবাদীরা লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করে, তাহলে ভয়ংকর জবাব দেওয়া হবে। সেই হামলা সব সীমা ছাড়িয়ে যাবে।’ এসবে মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানকে দেওয়া চরমসীমা দু’সপ্তাহ বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের কাছে আবেদন করেছেন। হরমুজ খোলার জন্যও তেহরানের কাছে আরজি জানিয়েছেন শাহবাজ।
ট্রাম্পের হুমকির পর পাওয়ার প্লান্টগুলিতে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে ইরানের স্থানীয় প্রশাসন। সে দেশের সমস্ত যুবক, অ্যাথলিট, শিল্পী, পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের পাওয়ার প্লান্টগুলির সামনে জড়ো হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ট্রাম্পের হুমকির তোয়াক্কা না করেই দামাবন্দ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে বাজনা বাজাচ্ছেন শিল্পী আলি ঘামসারি।
ইরানের লোকালয় লক্ষ্য করেও হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। আলবোর্জ প্রদেশে আকাশপথে হামলায় প্রাণ হারান ১৮ জন। খার্গ দ্বীপের সঙ্গে ইরানের সেতুতেও হামলার খবর মিলেছে। তুরস্কের ইস্তানবুলে ইজরায়েলি দূতাবাসের সামনে গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়। এই পরিস্থিতিতে ইরানবাসীকে সতর্ক করেছে ইজরায়েল বাহিনী। তাদের বার্তা, আগামী ১২ ঘণ্টায় ইরানের জনতা যেন কোনো রেলস্টেশন বা রেললাইনের কাছাকাছি না যান।