


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বৈধভাবে এপারে আসার পরই ভারতীয় ভুয়ো নথি তৈরি। তা ব্যবহার করেই ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করে এদেশের নাগরিক হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে দুই মহিলার বিরুদ্ধে। ভুয়ো নথি জমা করে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে ঝর্ণা রানি ওরফে ঝর্ণা ভট্টাচার্য এবং এলিজা খাতুন নামে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পেট্রাপোল থানা। এদের মধ্যে ঝর্ণা গত চার বছর ও এলিজা নয় বছর ধরে এদেশে রয়েছে। তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় বিভিন্ন নথি তৈরি করে দেওয়ার সিন্ডিকেট চালাচ্ছিল বলে জানা যাচ্ছে।
ভুয়ো ভারতীয় নথি দিয়ে যে সমস্ত বাংলাদেশির পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে, তার তালিকা তৈরি করেছে রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিস (আরপিও)। তাঁদের পাসপোর্টের নম্বরসহ সমস্ত নথি অভিবাসন দপ্তর ও বিভিন্ন জেলার পুলিসের কাছে দেওয়া হয়েছে। বনগাঁ পুলিস জেলা সূত্রে খবর, ঝর্ণা ও এলিজা আলাদা আলাদাভাবে কয়েকদিন আগে হরিদাসপুরে অভিবাসন দপ্তরে আসে। তাদের জমা দেওয়া পাসপোর্টের নথি মিলিয়ে দেখতে গিয়ে অফিসাররা দেখেন, আরপিও’র পাঠানো তালিকায় দুজনেরই নাম রয়েছে। এরপরই তাদের পেট্রাপোল থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঝর্ণারানির আসল বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকার নিউ ইক্সাটনের দিলু রোডে। ২০২১ সালের ২৭ আগস্ট সে চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসা নিয়ে ভারতে আসে। এরপর আর ফিরে যায়নি। সীমান্তের এক দালালকে ধরে জাল বার্থ সার্টিফেকেট তৈরি করে। নাম পাল্টে হয় ঝর্ণা ভট্টাচার্য। বনগাঁর একটি আধার সেন্টার থেকে তৈরি করে আসল ভারতীয় আধার কার্ড। এরসঙ্গেই ভারতীয় অন্য নথিও তৈরি করে। ভুয়ো নথি তৈরি করে ‘ভারতীয় হওয়া’র পর দমদমের রবীন্দ্রনগর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। ওই ঠিকানাতেই ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি হয়। সূত্রের খবর, দমদম এলাকায় একটি ফ্ল্যাটও কিনে নিয়েছে বাংলাদেশের ওই তরুণী।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর নতুনপাড়ার বাসিন্দা এলিনা খাতুন ভারতে রয়েছে ২০১৬ সালের ৮ জুন থেকে। সেও বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে এসেছিল। দালাল ধরে ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরি করে এলিনাও এদেশের পাসপোর্ট তৈরি করে ফেলে। এলিনা উত্তরপ্রদেশের একটি সংস্থায় কাজ করছিল। সেখানেই পাকাপাকিভাবে থাকছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এলিনা ও ঝর্ণা দুজনেরই ভারতীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
দুই বাংলাদেশি তরুণী জেরায় পুলিসকে জানিয়েছে, এখানে আসার পর তারা ছোটখাট কাজ করছিল। পরে জাল নথি তৈরি করে দেওয়ার কাজ শুরু করে। বাংলাদেশে থাকা দালালদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই দালালদের মাধ্যমেই বাংলাদেশি নাগরিকদের এপারে আনা হতো। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত লাগোয়া কোনও একটি পঞ্চায়েত থেকে বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করা হতো। এরপর সেই সার্টিফিকেট দিয়ে আধার, প্যান কার্ড সহ অন্য নথিও তারা বানিয়ে দিত বলে খবর। এভাবে জাল নথি তৈরিকে ব্যবসায় পরিণত করেছিল তারা। কোন কোন দালালের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল, দুজনের মোবাইল ঘেঁটে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে পাসপোর্টের আবেদন পর্বে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি মহিলার ভেরিফিকেশন কোন পুলিস কর্মীরা করেছিলেন, তারও খোঁজ চলছে।