


বেরহামপুর (ওড়িশা): বিজেপি শাসিত ওড়িশায় দুই দলিত ব্যক্তিকে চরম হেনস্তা। অভিযোগ, গো-পাচারকারী সন্দেহে ওই দু’জনের উপর অত্যাচার চালায় একদল যুবক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বিজেপি শাসিত রাজ্যে দলিত নিগ্রহের ঘটনা নতুন নয়। উত্তরপ্রদেশ বা রাজস্থানে হামেশাই এমন ঘটনার কথা শোনা যায়। এবারের ঘটনাটি ওড়িশার গঞ্জাম জেলার। জানা গিয়েছে, রবিবার কিছু গবাদি পশু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বাবুলা ও বুলু নায়েক। দু’জনেই মধ্যবয়স্ক এবং দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত। খারুগুমার কাছে তাঁদের পথ আটকায় একদল যুবক। নিজেদের গোরক্ষা দলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয় তারা। হুঙ্কারের সুরে জানায়, বাবুলা ও তাঁর সঙ্গী গোরু পাচারের চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, বাবুলাদের কাছে ছিল দুটো গরু আর একটা বাছুর। পশুগুলো বিয়েতে পাওয়া উপহার বলেই দাবি করেন বাবুলা। কিন্তু এই দাবি মানতে চায়নি যুবকের দল। তারা সাফ জানায়, ৩০হাজার টাকা দিতে হবে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই টাকা দিতে অস্বীকার করাতেই বাবুলাদের উপর চড়াও হয় যুবকের দল। মারধরের পর দুজনের অর্ধেক মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়। জোর করে ঘাস-পাতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় মুখে। এখানেই শেষ নয়, দুজনকে বাধ্য করা হয় হামাগুড়ি দিতে। প্রায় ১ কিমি ওইভাবে হামাগুড়ি দিতে হয় বাবুলাদের। এমনটাই অভিযোগ। কোনওক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে সোজা থানায় হাজির হন বাবুলা ও তাঁর সঙ্গী। ঘটনার কথা সবিস্তারে জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় শোরগোল বাড়ে। রাজনৈতিক মহলেও চর্চা তুঙ্গে। দলিত পরিচয়ের কারণেই কি হেনস্তা, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য? খতিয়ে দেখছে পুলিস।