


ফুকেত, ১১ ডিসেম্বর: থাইল্যান্ডে পালিয়ে গিয়েও কোনও লাভ হল না। গোয়ার আরপোরার অভিশপ্ত নৈশক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এর দুই প্রধান মালিক সৌরভ ও গৌরভ লুথরাকে আটক করল থাই পুলিশ। সেই সংক্রান্ত ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। যাতে দেখা যাচ্ছে থাইল্যান্ডের পুলিশ দুই ভাইয়ের হাত বেঁধে রেখেছে, সঙ্গে ধরে রাখা হয়েছে পাসপোর্ট। গতকাল, বুধবারই দিল্লির লাজপতনগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এর অন্যতম অংশীদার অজয় গুপ্তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি লুথরা ভাইদের বাগে আনতে সবরকম চেষ্টা করে গোয়া পুলিশ।
লুথরা ভাইদের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্লু-কর্নার নোটিশও জারি করা হয়েছে। এর মাঝেই আজ, বৃহস্পতিবার সকালে থাইল্যান্ড থেকে খবর আসে সৌরভ ও গৌরভকে আটক করা হয়েছে। সেই খবর পেয়েই, তাঁদের ভারতে ফেরাতে তৎপর গোয়া প্রশাসন। ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে গোয়া পুলিশের একটি দল। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতে ফেরানো হবে লুথরা ভাইদের। অপরদিকে আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির রোহিণী আদালতে লুথরা ভাইদের আগাম জামিনের আর্জির শুনানি রয়েছে। সেই দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের। চারটি দেশে মোট ২২টি রোমিও লেন নামের নৈশক্লাব রয়েছে লুথরা ভাইদের।
মূলত দিল্লির বাসিন্দা সৌরভ ও গৌরভ। গত শনিবার গভীর রাতে উত্তর গোয়ার আরপোরায় তাঁদের নৈশক্লাবে যখন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, ঠিক তখনই দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডের ফুকেতে পালিয়ে যায় লুথরা ভাইরা। এমনটাই অভিযোগ। যদিও তাতে কোনও লাভ হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। ইতিমধ্যেই গোয়ায় লুথরা ভাইদের থাকা অপর একটি নৈশক্লাবের অবৈধ নির্মাণের অংশ ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল, বুধবার গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের পরিকাঠামোকে অগ্নিসুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে।
যদি কোনও হোটেল, রিসর্ট বা নাইটক্লাব বিধি না মানে, তাহলে সেটির লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে। গতকাল, উত্তর ও দক্ষিণ গোয়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন সাওয়ান্ত। বৈঠকের পর তিনি জানান, সরকার ফায়ার সেফটি অডিট কমিটি তৈরি করেছে। তারা সমস্ত পরিকাঠামো পরীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দেবে।